প্রাথমিকভাবে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনেই (Flagship Smartphones) এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। গুগল জানিয়েছে, এটি কেবল কোনো সাধারণ নাম পরিবর্তন বা রিব্র্যান্ড নয়, বরং এটি অ্যান্ড্রয়েড ওএসের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের এআই আপগ্রেড (Major AI Upgrade)।
আরও পড়ুন:
কী কী জাদুকরী সুবিধা থাকছে জেমিনি ইন্টেলিজেন্সে? (Benefits of Gemini Intelligence)
এই সিস্টেমটি মূলত একজন দক্ষ ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করবে, যা ব্যবহারকারীর হয়ে একাধিক ধাপের কাজ নিমেষেই করে দেবে:
স্বয়ংক্রিয় টাস্ক এক্সিকিউশন: এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বা গোপনে তথ্য সংগ্রহ, জটিল ডেটা প্রক্রিয়াকরণ (Data Processing) এবং বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করতে পারবে।
জিবোর্ডে ‘র্যাম্বলার’ ফিচার: এর সাথে যুক্ত হচ্ছে গুগল কিবোর্ড বা জিবোর্ডের (Gboard) বিশেষ ফিচার ‘র্যাম্বলার’ (Rambler)। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভাষায়, এমনকি মিশ্র ভাষা (যেমন- বাংলিশ) ও অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তাতেও অত্যন্ত সহজে টাইপ বা ভয়েস টাইপিং করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
শুধু প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসেই সীমিত থাকবে সেবা (Exclusive for Premium Devices Only)
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ডট কম (Android.com) সাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেমিনি ইন্টেলিজেন্স একটি অত্যন্ত প্রিমিয়াম ফিচার, যা সচল করতে ফোনে নির্দিষ্ট কিছু হার্ডওয়্যার শর্ত (Hardware Requirements) পূরণ করতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রথম ধাপে আসন্ন কিছু প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে পাওয়া যাবে:
১. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ও জেড ফ্লিপ ৮ (Samsung Galaxy Z Fold 8 & Z Flip 8)
২. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ২৬ সিরিজ (Samsung Galaxy S26 Series)
৩. গুগলের নিজস্ব পিক্সেল ১০ সিরিজ (Google Pixel 10 Series)
ফোন কেনার আগে দেখে নিন গুগলের কঠোর শর্তাবলী (Strict Performance & Hardware Conditions)
আপনার ফোনে গুগলের এই নতুন এআই ফিচারটি চালাতে হলে নিচের কঠিন শর্তগুলো পূরণ হতে হবে:
র্যাম ও প্রসেসর: ডিভাইসে অন্তত ১২ জিবি র্যাম (12 GB RAM) থাকতে হবে। এআই প্রসেসিংয়ের জন্য সিস্টেমে ‘এআইকোর’ (AICore) সাপোর্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এআই মডেল: ফোনে অবশ্যই ‘জেমিনি ন্যানো ভি ৩’ (Gemini Nano v3) বা তার চেয়ে উচ্চতর সংস্করণের অন-ডিভাইস এআই মডেল থাকতে হবে।
সফটওয়্যার আপডেট: ফোনটিতে দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট থাকতে হবে—কমপক্ষে ৫টি বড় ওএস আপডেট (5 Major OS Updates) এবং টানা ৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেট বাধ্যতামূলক।
মিডিয়া ও গেমিং পারফরম্যান্স: কম ক্র্যাশ রেট, স্পেশাল অডিও (Spatial Audio), লো-লাইট ক্যামেরা, শক্তিশালী এইচডিআর (HDR) সাপোর্ট এবং উন্নত গেমিং প্রসেসর থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুগল তাদের এই জেমিনি ইন্টেলিজেন্স ফিচারটি দিয়ে মূলত একটি ‘এক্সক্লুসিভ ক্লাব’ (Exclusive Club) তৈরি করছে, যা কেবল দামি এবং শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ব্যবহারকারীরাই উপভোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
একনজরে জেমিনি ইন্টেলিজেন্সের শর্ত ও ফোন তালিকা (Quick Guide: Gemini Intelligence Eligibility)




