বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টো পাশেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক ল্যাব। যেখানে প্রতিদিন নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে হাজারো মানুষের। তবে কতকুটু সঠিক হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
সম্প্রতি এ বিষয় খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শেবাচিমের পাশের ল্যাব গুলোতে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায় বেশিরভাগ ল্যাবে ব্যবহার হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কীট, নেই প্রয়োজনীয় সনদও। রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে ডাক্তারের আগে থেকে সাইন করা প্যাডের কাগজে।
আরও পড়ুন
বরিশাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, ‘অধিকাংশ মেডিকেলগুলোর ফ্রিজগুলোয় আমরা বিভিন্ন খাবর পেয়েছে। যা বেআইনি কর্মকাণ্ড।’
এ খবরে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কায় আছেন রোগী ও স্বজনরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিনিয়ত তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলো লাইসেন্স নবায়ন করছে না বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। তবে নানা জটিলতার কারণে তারা লাইসেন্স পাচ্ছেন না বলে দাবি ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতির।
বরিশাল জেলা ডায়াগনস্টিক ডোনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে গণস্বাস্থ্যের সনদ নেয়া লাগবে। যা আর অন্য কোনো সিটিতে দরকার হয় না। আর তা না হলে ট্রেড লাইন্স করতে পারবো না।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মনজুরুল ইমাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ২০০৯ ও ২০১৮ সালের বিধি অনুযায়ী আমরা সব কিছু করছি।’
এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, লাইসেন্স বিহীন ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘লাইসেন্স বিহীন কোনো ক্লিনিককে আমরা কোনো সময় অনুমোদন দেইনি। আর এমন কোনো কিছু পেলে আমরা তার জন্য ব্যবস্থা নেই।’
৫৮ বর্গ মাইলের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১৩৮টি। তবে অনিবন্ধিত ল্যাবগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।





