টানা বৃষ্টিতে হাওরে ডুবছে পাকা বোরো; দুশ্চিন্তায় কিশোরগঞ্জের কৃষক

পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি ধানক্ষেতের ছবি
পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি ধানক্ষেতের ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যখন বোরো ধান কাটার মৌসুম তুঙ্গে, ঠিক তখনই টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে পাকা ধানক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে আনন্দের মৌসুম এখন পরিণত হয়েছে উদ্বেগে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে। সেখানে খোয়াই নদীর পানি প্রবেশ করে পাকা ধানক্ষেত ডুবিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত পানি বাড়ায় অনেক জমিতে ধান কাটার সুযোগই মিলছে না। এতে চোখের সামনে ফসল হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে শুধু জমিই নয়, রেহাই পায়নি ধান শুকানোর খলাও। টানা বৃষ্টিতে খলাতে পানি জমে থাকায় ধান মাড়াই ও সংরক্ষণে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। ফলে কাটা ধানও ঠিকমতো ঘরে তোলা যাচ্ছে না।

নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকালও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টগ্রাম ছাড়াও ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুরের হাওর এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় পানি কমার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে ধান কাটার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমি। এবার মোট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

অষ্টগ্রামের কৃষক ফুল মিয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে শত শত একর জমির ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না। আমাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। বিকেলের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।’ এছাড়া অষ্টগ্রামের খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকায় খোয়াই নদীর পানি ঢুকে ধানক্ষেত প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখনো হাওরের পানি বিপদসীমার নিচেই রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিলো।

এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি উঠেছে। হাওরের মাঠজুড়ে এখন একটাই বাস্তবতা— পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের বছরের পরিশ্রম আর আশা।

এসএইচ