শতবর্ষী গাছ না কি হাসপাতাল? উন্নয়নের দ্বন্দ্বে বন্দর নগরী

চট্টগ্রাম সিআরবি
চট্টগ্রাম সিআরবি | ছবি: এখন টিভি
0

শতবর্ষী গাছ আর প্রকৃতি রক্ষা নাকি হাসপাতাল—কোনটি প্রাধান্য পাবে সরকারের কাছে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্ক।

শতবর্ষী গাছ, নানা প্রজাতির পাখি আর সবুজের সমারোহ চট্টগ্রামের সিআরবি—যাকে বলা হয়ে থাকে চট্টগ্রামের ফুসফুস। গাছের ছায়ায় শীতল বাতাসে বিশ্রাম নেন পথচারীরা, বিকেলে জমে আড্ডা আর সাংস্কৃতিক আয়োজন। কিন্তু এই সবুজ প্রাঙ্গণ নিয়ে আবার আলোচনা—কারণ এখানে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের গুঞ্জন উঠেছে।

এর আগে, ২০২১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে এক বছরের বেশি ধরে আন্দোলন করেন পরিবেশকর্মীসহ নগরবাসী। তীব্র বিরোধিতার মুখে তখন প্রকল্পটি স্থগিত হয়। এবার আবারও হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে চট্টগ্রামে। সামাজিক মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদ, মাঠেও নেমেছেন সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবিদরা।

পরিবেশবিদরা জানান, এটা তো হেরিটেজ। এটা তো অক্সিজেনের জায়গা। এ জায়গা তো ৩০ শতাংশের মতো আমাকে অক্সিজেন দেয়। নতুন হাসপাতাল না করে রেলওয়ে হাসপাতালকে নতুন করে চালু করার দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন:

সিআরবিতে প্রায় ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এরমধ্যে ঔষধি গাছ রয়েছে ১৮৩ প্রজাতির। এছাড়াও এখানে শতবর্ষী বৃক্ষ রয়েছে। এটি কালচারাল হেরিটেজের অংশও। এখানে পরিবেশ ধ্বংস করে কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন খোদ মেয়রও।

চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো স্থাপনা আমরা করতে দিব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নিবে না।’

অন্যদিকে, রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তির আওতায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছিল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ছিল ১২ বছর। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।

রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে, অস্বস্তির মধ্যে রেখে তো আর কোনো পরিকল্পনা হবে না। সরকারের তো এমন কোনো দুর্বলতা নেই। তবে যদি এমন কোনো প্রকল্প হয় যে যেভাবে ক্ষতি ভাবা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তা না বরং তার চেয়ে আরও বেশি জনবান্ধব, আরও বেশি চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন সেগুলো বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।’

সব মিলিয়ে, উন্নয়ন নাকি পরিবেশ—এই দ্বন্দ্বে আবারও উত্তপ্ত চট্টগ্রামের সিআরবি।

ইএ