বদলি হজ কী? (What is Badli Hajj?)
সহজ কথায়, কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর তিনি যদি নিজে তা আদায় করতে অক্ষম হন, তবে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানোকে 'বদলি হজ' বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃদ্ধ পিতা বা মৃত মায়ের পক্ষ থেকে সন্তানদের হজ করার অনুমতি দিয়েছেন। এটি মূলত আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করার মতো, যা বান্দার ওপর আবশ্যিক।
আরও পড়ুন:
বদলি হজের নিয়ম ও বিধান (Rules and Regulations of Badli Hajj)
অনেকেই মনে করেন বদলি হজের নিয়ম আলাদা, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। সাধারণ হজের মতোই সব রুকন পালন করতে হয়। প্রধান পার্থক্য হলো নিয়ত (Intention) এবং তালবিয়া পাঠের সময়। ইহরাম বাঁধার সময় প্রেরিত ব্যক্তিকে অবশ্যই মনে মনে এবং মুখে উচ্চারণ করে বলতে হবে যে, তিনি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই হজ আদায় করছেন।
কাদের জন্য বদলি হজ করানো জায়েজ? (Who can perform Badli Hajj?)
শারীরিক সক্ষমতা থাকা অবস্থায় অন্যকে দিয়ে হজ করানো জায়েজ নেই। বদলি হজ কেবলমাত্র নিচের ক্ষেত্রগুলোতে প্রযোজ্য:
অসুস্থতা: এমন কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগে (Chronic Illness) আক্রান্ত যা থেকে সুস্থ হওয়ার আশা নেই।
শারীরিক অক্ষমতা: বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া।
মৃত্যু: হজ ফরজ হওয়ার পর আদায় না করেই মারা গেলে তার সম্পদ থেকে বদলি হজ করানো ওয়ারিশদের জন্য জরুরি।
নিরাপত্তা ও মাহরাম: নারীর ক্ষেত্রে হজের সফরে মাহরাম (Mahram) সঙ্গী না পাওয়া গেলে।
জরুরি মাসায়েল (Essential Masail of Hajj)
যদি কোনো ব্যক্তি বদলি হজ করানোর পর অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে যান, তবে তার ওপর পুনরায় নিজে গিয়ে হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আগের বদলি হজটি নফল হজ (Nafl Hajj) হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, হজের সফরে রওনা হয়ে মক্কায় পৌঁছানোর আগে মারা গেলে তার ওপর থেকে হজের দায় রহিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অসিয়ত করার প্রয়োজন পড়ে না।
আরও পড়ুন:
একনজরে বদলি হজের মাসায়েল (Badli Hajj Guidelines At a Glance)
বিবরণ তথ্য ও মাসায়েল বদলি হজ কী অক্ষম বা মৃত ব্যক্তির পক্ষে অন্যের হজ করা কাদের জন্য জায়েজ অন্ধ, পঙ্গু বা অতি বৃদ্ধ (সুস্থ হওয়ার আশা নেই এমন) প্রধান শর্ত প্রেরণকারীর ওপর হজ আগে থেকেই ফরজ হতে হবে খরচ বহন সম্পূর্ণ খরচ মূল ব্যক্তির সম্পদ থেকে দিতে হবে
