প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জবাবদিহিতা করার জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়াও বাস মালিকের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত বক্তব্যও সন্তোষজনক হয়নি বলে জানান কমিটির প্রধান।
জানা যায়, গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন দিবাগত রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন-বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-১ আসিফ খান চৌধুরী ও ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মমিন।
তাদের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের শেষদিন রোববার কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের নিকট ১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ৪ গেটম্যান, বিজয়পুরের ২ গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের সহকারী রেলস্টেশন মাস্টার, ট্রেনের দুই লোকোমাস্টার ও বাস চালকের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি কমিটির নিকট প্রতীয়মান হয়েছে।
এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জবাবদিহিতা করার জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়াও বাস মালিকের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায় উল্লেখ করে আমরা প্রতিবেদনটি দাখিল করেছি।
তিনি বলেন,‘তদন্তে অন্তত ৬টি বিষয়ে ব্যত্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে এবং বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভাগ দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ প্রতিবেদনে মোট ৮টি সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি আমি পেয়েছি। এ প্রতিবেদনটি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব মহোদয় ও রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় বরাবরে প্রেরণ করা হবে। পরবর্তীতে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ২১ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেন-বাসের সংঘর্ষে ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় অন্তত আরও ১০ জন।
ঘটনার পর ওই বাসের যাত্রী ও লাকসামের বাসিন্দা আহত শেফালী আক্তার বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় দুই গেটম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ।





