সিলেট নগরীর সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় থেকে কয়েকদিন আগে প্রকাশ্যে এক শিক্ষার্থীর ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আশপাশের লোকজন হতভম্ব হয়ে পড়েন।
এর আগে রমজানের শুরুতেই মহানগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে এক নারীর কাছ থেকে টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয় ছিনতাইকারী।
এ দুই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নগরজুড়ে অপরাধ বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। আগে সিলেটে এমন কোনো সমস্যায় নগরবাসী পরতে হয়নি। নতুন করে এ সমস্যাগুলো বাড়ছে বলে জানান নগরবাসীরা।
আরও পড়ুন:
বিশেষ করে নারী ও পথচারীরাই বেশি হচ্ছেন ছিনতাইয়ের শিকার। ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে বের হলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না অনেকের।
একজন নারী বলেন, ‘আমরাও আতঙ্কে থাকি। ছেলে মেয়েরা যখন বাসা থেকে বের হয় তখন আবার মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়ে যায় কিনা।’
এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান স্থানীয়দের।
সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো ছত্র-ছায়া আছে কিনা এগুলো আমাদেরকে দেখতে হবে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সময় নজরদারি থাকতে হবে।’
চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনায় কারও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি।
সিলেট–১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন। বিগত কয়েকদিনে কিশোর গ্যাং এর অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়াও আমরা আগামীতে প্রযুক্তির ও সহায়তা নেবো।’
এদিকে নগরজুড়ে টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য আমরা সব সময় চেষ্টা করছি। ঈদ উপলক্ষ্যে এবং রোজা উপলক্ষ্যে আমাদের এই চেষ্টাটা অব্যাহত আছে।’
চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবে নগরবাসী—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।





