শহুরে আলোয় একদিকে ঝকঝকে রেস্তোরাঁয় সেহরির বাহারি আয়োজন, অন্যদিকে পিচঢালা রাজপথে ক্ষুধার্ত পেটে শুভর রিক্ত এই আক্ষেপ । সিয়ামের দিন তিন, পার হলেও সেহরি জোটেনি কপালে।গেল দুইদিন পানি দিয়ে শেষ রাতের আহার মেটালেও, এখন তার অবসন্ন দেহ মন কেবলই কারো সাহায্যের অপেক্ষায়।
শুধু শুভই নয়,ইউনিসেফ ও বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে রাজধানীতে পথ-শিশু এবং ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা ২ লাখের উপরে, যার মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি রাস্তার ধারে বা ফুটপাতে ঘুমায়। আর যাদের বেশির ভাগের রমজানের বাস্তবতা ঠিক শুভর মতই।
তারা জানান, গত তিন রোজায় তারা একদিন সেহরি করেন নি। আশায় আছেন কারো সাহায্যের। কেউ দিলে সেহরি করবেন নাহয় না খেয়ে থাকতে হবে।
যদিও কিছু কিছু মানুষ আছে যারা রাতে আধারে আলোর বাতি নিয়ে আসেন এসব মানুষের একাংশের ক্ষুধা মেটাতে। তার মধ্যে একজন উম্মে সালমা উর্মি। মাত্র ২৫ বছরে নিজের জীবনের সব উজ্জ্বলতাকে পেছনে ফেলে দাঁড়িয়েছেন পথ-শিশু ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে। পথের ইশকুল নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে প্রতিদিন সেহরি তুলে দিচ্ছেন শতাধিক মানুষের মুখে।। তবে আর্থিক অসচ্ছলতায় বছরের পর ধরে চলা এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পথের ইশকুলের নির্বাহী পরিচালক উর্মী বলেন, রমজান মাসজুড়ে আমরা একবেলা সেহরি ও ইফতারের আয়োজন করি। মাটি ভাইয়া গতবছর মৃত্যুর পর থেকে আমাদের ফান্ড ক্রাইসিস হচ্ছে। এ আয়োজনটা আমরা মাসব্যাপী করতে পারবো কি না সে অনিশ্চয়তায় আছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা চাই আমাদের এ আয়োজন মাসব্যাপী চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
সমাজ বিজ্ঞানীদের বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা সামাজিক দায়বদ্ধতার বিমুখ আচরণে বিপুল সংখ্যক এসব মানুষ বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুযোগ সুবিধা থেকে। ফলে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে দায়িত্ব নিতে হবে সকল শ্রেণীর মানুষের।
সমাজ বিজ্ঞানী ফাতেমা রেজিন ইকবাল বলেন, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারে একটা কাশি দিলেও রোজা রাখলে বাবা মা অস্থির হয়ে যায়। কিন্তু এ শিশুদের কে দেখে? তাদের নেই কোনো সেহরির নিরাপত্তা, নাই কোনো ইফতারের নিরাপত্তা। এমনকি ন্যুনতম বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু পুষ্টিকর খাবার দরকার সেটুকুও তারা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের সবার এগিয়ে আসা দরকার।





