সূর্য সহধর্মী ফাল্গুন-চৈত্র পেরিয়ে, দীর্ঘ চব্বিশ বছর ধরে বইমেলার স্মৃতি বয়ে বেড়ান সাইফুল্লাহ নবীন নামের এ প্রবীণ। এ বছর মেলা গড়াচ্ছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। তবে ভাটা পড়েনি নবীনের মেলা গোছানোর কাজে।
বাঁশ ও কাঠের ফ্রেমে হাতুড়ি-করাতের আঘাতে নান্দনিক নকশায় রূপ নিচ্ছে একেকটা স্টল। এসব ঘিরেই এখন বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে কর্মব্যস্ততা।
তবে, টানাপড়েন বাংলাবাজার বইয়ের মার্কেটে। একে তো রোজার মধ্যে মেলা, তার ওপর তা গড়াবে মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। মেলায় পাঠক সমাগম কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ প্রকাশকদের চোখেমুখে।
অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, ‘আসলে পাঠকরা রোজায় যাবে না। সবাই রোজা রাখবে ইফতার করবে বাসায় চলে যাবে। এ অল্প সময়ের জন্য বই প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। যেগুলো বই পাইপ লাইনে আছে সেগুলো প্রকাশ করা যাবে। অনেকেই সমস্যায় পড়বেন, অর্থনীতি বড় ব্যাপার।’
আরও পড়ুন:
নবগঠিত মন্ত্রিসভার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আশ্বাসে অনিচ্ছা থাকলেও মেলায় অংশ নিচ্ছেন সব প্রকাশক। স্টল বরাদ্দে ফি দিতে না হলেও, বই বিক্রির আগাম ভাটায় শঙ্কা আছে প্রকাশকদের।
অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন নাথ বলেন, ‘কোভিডের হামলা থেকেই বই প্রকাশনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই ঝুঁকি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। এবার নয় ২৬, ২৭, ২৮ এ তিন বছরই রমজান থাকবে। তাই আমাদের ভাবনা আজ থেকেই শুরু করতে হবে।’
এদিকে, নির্বাচনের পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মেলা আয়োজনে তোড়জোড় আছে বাংলা একাডেমির। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের আশ্বাস, পাঠক বই কম কিনলেও সরকারি দপ্তরগুলো মেলা থেকেই বই সংগ্রহ করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে দেবে সরকার।
অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটি সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘স্টল ভাড়া শতভাগ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে, সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাহিরে বই কেনার বিষয় আছে, সেটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। সেটি মন্ত্রণালয়ে ওনারা আবেদন করবেন। সেখানে মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন, এটিকে প্রায়োরিটি বেসিসে কনসিডার করবেন।’
২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে মেলা। শুরুর দিনেই বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন, এখন পর্যন্ত এটাই চূড়ান্ত। সবমিলিয়ে নব্বই ভাগের বেশি কাজ গুছিয়ে আনার দাবি করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ।





