Recent event

অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত অভিবাসন খাত, নজরদারির প্রত্যাশা সরকারের কাছে

এয়ারপোর্টে প্রবাসীরা
এয়ারপোর্টে প্রবাসীরা | ছবি: এখন টিভি
0

বৈদেশিক আয়ের অন্যতম উৎস রেমিট্যান্স। অথচ অবহেলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় সংকটে অভিবাসন খাত। প্রতিবছর প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা কর্মীর সংখ্যা লাখেরও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথমদিন থেকেই নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এই খাতকে আনতে হবে জবাবদিহিতার আওতায়।

সৌদিফেরত রিজিয়ার পরিবারের খোঁজ মেলেনি এখনও। ব্র্যাকের আশ্রয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মধ্যবয়সী এ নারীকর্মী। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লক্ষ্যহীন ঘোরাফেরা দেখে সিভিল অ্যাভিয়েশন পরিবারের সন্ধানে ব্র্যাকের কাছে তাকে হস্তান্তর করে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জেদ্দার বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোম থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

এখন টেলিভিশনের গন্তব্য ব্র্যাকের একটি আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে খোঁজ মেলে বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে ফেরা আরেক নারীকর্মীর। নিজের টাকায় নিজের একটি ঘর হবে- এমন স্বপ্ন নিয়ে যার বিদেশ যাত্রা, সেই নারী ফিরেছেন স্বপ্নভাঙা গল্প নিয়ে। প্রতারণার শিকার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দেশে আসা এ নারীর এখন পরিবারের কাছেই ফেরার দরজা বন্ধ।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘যারা বাসা থেকে পালিয়ে আসে, যাদের কাগজ নেই তাদের এ খারাপ কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। এখন আমি আমার সন্তানকে দিয়ে দিতে চাচ্ছি। তারা আমাকে সিজারের খরচ দিবে তারপর আমি বাচ্চাটি তাদের দিয়ে দিবো।’

ঢাকার একটি মানসিক হাসপাতালে কাটছে স্বপ্নবাজ রেমিট্যান্স যোদ্ধা সালেহ চৌধুরী। তারও দায়িত্ব নিয়েছে ব্র্যাক।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। সেই জায়গায় আমারা তাদের পাশে আছি এদের চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের কাজ করছি। তবে দীর্ঘ পরিকল্পনা সরকারকেই নিতে হবে।’

এমন ভাগ্যবরণ করে শূন্য হাতে ফেরা কর্মীদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। প্রতিবছর ডিপোর্ট হয়ে ফিরে আসেন গড়ে প্রায় এক লাখ প্রবাসী কর্মী। গেল বছর কেবল রিয়াদ থেকেই ফিরেছেন প্রায় ৫৮ হাজার বাংলাদেশি।

শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দূতাবাসের সেবার মান বৃদ্ধি, ফিরে আসা কর্মীদের দায়িত্ব নেয়া ও বিদেশ যাত্রায় ব্যয় কমিয়ে আনাসহ নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ঠিক করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, ‘লোক পাঠানো ছাড়াও বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। পৃথিবীর যে দেশগুলোতে আমাদের শ্রমিকরা রয়েছে তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। শ্রম মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যদের দায়িত্বে দেয়া হয় আমার মনে হয় কম গুরুত্ব মনে করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘এ প্রবাসীরা বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার পাঠাচ্ছে, যারা অর্থনীতির ভিত্তি তারা কেন মানবিক মর্যাদা পাচ্ছে না? অভিবাসন খাতের অব্যবস্থাপনায় এটি হচ্ছে। সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আমাদের লোকজন বিদেশ যাবে দক্ষ হয়ে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে। রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে। পুরো পক্রিয়া ডিজিটাল হবে।’

তবে শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবারের ভাগ্য বদলাতে প্রতিনিয়ত এভাবে ছুটছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স। তবে অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীরাই সবচে বেশি অবহেলিত। নতুন সরকারকে শতভাগ নজরদারির পাশাপাশি এই খাতকে আনতে হবে জবাবদিহিতার আওতায়।

এফএস