১৯৯০-এর দশকে করা ওসলো চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরকে এরিয়া এ, বি এবং সি এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো আলাদা আলাদা নিয়মে পরিচালিত হয়। লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে এর নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে দেয়া। যদিও অনেকে মনে করেন, এর ফলে ফিলিস্তিনিদের শাসন দুর্বল হয়েছে এবং ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
পশ্চিম তীরের প্রায় ১৮ শতাংশ এরিয়া ‘এ’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে চলা ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযান দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। এরিয়া বি এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীরের ২২ শতাংশ। এই এলাকা দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অধীনে। এছাড়া পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এরিয়া সি যা পুরোপুরি ইসরাইলিদের দখলে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক, ইউসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘সীমানা ঠিক হলে বোঝা যেত ফিলিস্তিন কোথায় আর ইসরাইল কোথায়। কিন্তু আমরা কখনোই সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। বারবার চেষ্টা করেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে আসা সম্ভব হয়নি। ফলে ‘দুই-রাষ্ট্র সমাধান’ এর ওপর ভিত্তি করে যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।’
১৯৯৫ সালে একটি সাময়িক চুক্তিতে ৫ বছর পর চূড়ান্ত আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার কথা বলা হয়। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ৩০ বছর ধরে ব্যবস্থা বদল হয়নি। অনেকে মনে করেন, এর ফলে ফিলিস্তিনিদের শাসন দুর্বল হয়েছে এবং ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
১৯৬৭ সালে একটি যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম দখল করে ইসরাইল। ইসরাইল জেরুজালেমকে নিজেদের অংশ করে নিলেও বিশ্বের অন্য দেশ তা স্বীকার করেনি। ১৯৯৪ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কিছুটা স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়, কিন্তু পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতেই থাকে।
ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে তাদের একটি স্বাধীন দেশ হোক। অন্যদিকে, ইসরাইলের কাছে এই জায়গাটি ধর্মীয় ও নিরাপত্তার কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ এই কারণেই সেখানে ইহুদি বসতি বাড়ছে।
২০১৬ সালে জাতিসংঘ এক আদেশে জানায় যে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরাইলি বসতি তৈরি করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি শান্তি বজায় রাখার পথে একটি বড় বাধা। যে চুক্তিটি কয়েক বছরের জন্য করা হয়েছিল, সেটিই এখন স্থায়ী সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্পকেও দায়ী করেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অধ্যাপক ইউসি মেকেলবার্গ।
অধ্যাপক ইউসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘ট্রাম্প এমন সব কথা বলেন যা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক আলোচনায় পরিণত করছেন। যা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের সামিল।’
তবে পশ্চিম তীরে ট্রাম্প ইসরাইলের পূর্ণ অধিকার সমর্থনের বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আমরা একটি ঘোষণা দেব।’
ইসরাইলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইসরাইলের অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজারই শিশু।


 weapon at Eglin Air Force Base, Florida-320x167.webp)


