অবশেষে শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কয়েক মাসের তিক্ত সম্পর্কের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে । গেল আগস্টে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। এতে এতোদিন ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের বোঝা বইছিলো নয়াদিল্লি।
তবে শুক্রবার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ ও আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের শর্তে, ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া, পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি ধাপে ধাপে কার্যকর করবে ওয়াশিংটন।
শনিবার চুক্তিটির কাঠামো নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এটিকে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, চুক্তির ফলে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।
আরও পড়ুন:
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র- ভারত চুক্তিতে রক্ষা পাবে কৃষকদের স্বার্থ। ভারতে যেসব পণ্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত এবং যেসব পণ্য কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত করে সেগুলোকে চুক্তির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আমরা এসব পণ্য আমদানির কোনো সুযোগ রাখছি না।
চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, গম, চাল, ভুট্টা, সয়াবিন, দুধ, ঘি, পনির মতো পণ্যগুলো ভারতের বাজারে রপ্তানির সুযোগ পাবে না যুক্তরাষ্ট্র।’
এসময় পীযূষ গোয়েল, বাংলাদেশ, চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্কের পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, দেশগুলোর চেয়ে কম সম্পূরক শুল্কে ব্যবসা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।
এছাড়া, নতুন চুক্তি ভারতের টেক্সটাইল, চামড়া ও ফুটওয়্যারের মতো রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের অভিমত, চীন, মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য ঘাটতিতে মার্কিন কৃষি খাত। যা কমাতে ভারতের মতো দেশকে বেছে নিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।





