সবজি ও আলুতে স্বস্তি
আজ (শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ শীতকালীন সবজি এখন ৬০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০–৪০ টাকা, শিমের দাম প্রকারভেদে ৩০–৫০ টাকা কেজি। কুমড়া, মুলা, পেঁপে, শালগম ও ব্রকলি দামও বেশ সহনীয়। আলুর দাম প্রতি কেজিতে ২০–২৫ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ৫–১০ টাকা কম।
নারিন্দার কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস বলেন, ‘শীতের সবজি এখন সহনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ ভালো থাকায় দামও ঠিক আছে। তবে শসা ও কাঁচা মরিচের দাম একটু বেশি, যা রোজাকে সামনে রেখে।’
মাংস ও ডিমের বাজার চড়া
সবজিতে স্বস্তি থাকলেও মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কেড়ে নিয়েছে ক্রেতাদের কণ্ঠ। জানুয়ারির শুরুতে ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ১৮০–১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি এলাকাভেদে ৮০০ টাকার ওপরে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা মনে করছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে।
রায়সাহেব বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ টাকা ছিল। এখন রোজা উপলক্ষে ১৭০–১৮৫ টাকা হয়ে গেছে।’
চাল, গুঁড়ো দুধ ও চায়ের দাম বৃদ্ধি
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া চাল এখন ১৭৫ টাকা। শিশুদের গুঁড়ো দুধের দামও বেড়েছে; নেসলের ল্যাকটোজেন ও ন্যান প্যাকেটপ্রতি ৫০ টাকা, আড়াই কেজির নিডো দুধের দাম ২৯৫০ থেকে ৩২০০ টাকা। সব ধরনের চা পাতার দামও কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় সরবরাহকারীরা দাম বৃদ্ধি করেছে।
মশলার বাজারে আগুন
মশলার বাজার সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৩২০০ টাকার এলাচ ৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ টাকার আলু বোখারা ৮০০, ৫০০ টাকার কিশমিশ ৯০০ টাকায় উঠেছে। কাঠবাদাম ও অন্যান্য শুকনো ফলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিকেজি আদা ও রসুন ১৪০–২২০ টাকা, চিনি ৯৮–১০৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০–৭০ টাকা, ছোলা ৮০–১০০ টাকা, মশুর ডাল ৮০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও চাল, ডাল ও তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।





