সাভারে অবৈধ সিসা কারখানার বিষাক্ত এসিডে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, সিসা কারখানা | ছবি: এখন টিভি
0

সাভারে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানার বিষাক্ত এসিডে ধ্বংস হচ্ছে শতাধিক বিঘা জমির ফসল। এতে বছরের পর বছর ধরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। অভিযোগ থাকলেও কোনো এক রহস্যজনক কারণে বন্ধ হচ্ছে না কারখানাটি।

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ঝাউচর গ্রামে কৃষি জমির একেবারে পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা। দিন দিন কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত অ্যাসিড ও গ্যাস। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নবোনা ফসল।

চলতি মৌসুমে এ ঝাউচর গ্রামেই শতাধিক বিঘা জমিতে ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, বেগুন, শিম, লাউ, পুঁইশাক ও ধনিয়া পাতার আবাদ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই সব নষ্ট করে দিচ্ছে সিসা কারখানার বিষাক্ত এসিড। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ব্যাটারি গলায়, এর কারণে এটার ভেতরে যে গ্যাস আছে, তার কারণে প্রতিবার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

অন্য একজন বলেন, ‘ফসল যে সময়েই করি যখনই ফসল আসে, তখনই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের।’

আরও পড়ুন:

কৃষকদের অভিযোগ, কেবল ফসল নয়, কারখানার বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনে নষ্ট হচ্ছে বসতবাড়ির টিনের চাল, মারাত্মক হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাসহ নানা রোগ।

কারখানার ভেতরে কী হচ্ছে জানতে চাইলে গেটই খোলেনি কর্তৃপক্ষ। এত অভিযোগের পরও কীভাবে চলছে অবৈধ সিসা কারখানা- তা নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

এদিকে কৃষি বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসন বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে সিসা কারখানা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন তারা।

সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে একটা সম্পূর্ণ রিপোর্ট দিয়ে যদি সরকারিভাবে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া যায়, সেটার ব্যবস্থা উপজেলা পরিষদ থেকে করার কথা আমরা বলবো।’

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমরা তথ্য জানা মাত্রই সেখানে অভিযান পরিচালনা করবো। একইসঙ্গে আমি পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আমি অবগত করেছি।’

শতাধিক বিঘা জমির ফসল ও কৃষকের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এসএস