গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয় কায়দায় রাজধানী কারাকাস থেকে স্ত্রীসহ উঠিয়ে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ডেলসি রদ্রিগেজ শপথ নেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে। শুরুতে তার সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা গেলেও আস্তে আস্তে সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে বলে দাবি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর।
মাদুরো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিলো মাদুরো যেন ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যায়। কারণ তার সাথে কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়।’
মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন সিনেটে প্রথমবারের মতো আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন রুবিও। তখন তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় নতুন করে আর কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নেই। দেশটির বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হাঁটছে বলেও দাবি করেন।’
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি যথাযথভাবে কাটিয়ে উঠতে আমাদের মধ্যে গঠনমূলক সুসম্পর্ক গড়ে উঠছে। তবে আরও অনেক কাজ এখনো বাকি। আপাতত ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন দেখছি না।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো দ্রুতই দেশে ফিরেতে চান বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজের এবং লাখ লাখ ভেনেজুয়েলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমি দেশে ফেরার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। শুধু আমি না শত শত রাজনৈতিক নেতা, ভেনেজুয়েলার লাখ লাখ বাসিন্দা দেশে ফিরে দেশ গঠনে কাজ করতে আগ্রহী।’
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। গতকাল (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) তাকে সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার প্রতি আনুগত্য জানায় ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী। তবে, এরইমধ্যে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন রদ্রিগেজ। এদিন, রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভও করেন তারা।
এদিকে ভেনেজুয়েলা থেকে জব্দ করা একটি ট্যাংকার ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের শেষে দিকে ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাংকার আটক শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও গত ৭ জানুয়ারি জব্দ করা এ ট্যাংকার কেন ফেরত দিলো যুক্তরাষ্ট্র বা আদৌ এতে তেল ছিলো কিনা- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।





