শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

নিহত রেজাউল করিম
নিহত রেজাউল করিম | ছবি: সংগৃহীত
1

শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাতে তিনি মারা যান। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মাওলানা রেজাউল করিমের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আজ রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।

নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন।

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ |ছবি: এখন টিভি

ওই আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থান অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। যদি আমরা বিচার না পাই তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

আরও পড়ুন:

এর আগে, আজ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

এসময় সংবাদ সংগ্রহকালে দু’জন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসএস