এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি গতকাল (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। আজও (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহবান জানিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এ জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
অ্যাডভোকেট পিলু আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও, বিচার প্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আরও পড়ুন:
জানা গেছে, কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্ম পরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর, জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক, এবং সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এ প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।





