উচ্চ দাম ও লাভের আশায় শেরপুরে বাড়ছে মটরশুঁটি চাষ

মটরশুঁটি চাষের জমি
মটরশুঁটি চাষের জমি | ছবি: এখন টিভি
0

উচ্চ বাজারমূল্য ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির সুফলের কারণে শেরপুর জেলার কৃষকদের মধ্যে মটরশুঁটি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে জেলায় মটরশুঁটি চাষের জমি ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে এই ডালজাতীয় শীতকালীন ফসলের চাষ আরও বাড়বে।

শেরপুর সদর উপজেলার চরখারচর গ্রামের কৃষক হারেজ মিয়া কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এক বিঘা জমিতে মটরশুঁটির চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা, আর সম্ভাব্য মুনাফা ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শেরপুর সদরে মটরশুঁটির বাম্পার ফলন হয়েছে।

মটরশুঁটি একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শীতকালীন ফসল। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি ও সি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। উন্নত বীজ নির্বাচন ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই ফসল থেকে ভালো ফলন ও লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছর জেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটির আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, হাইব্রিড জাতের ‘দেবগিরি’ মটরশুঁটির চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না। বীজ রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। এ জাতের মটরশুঁটির বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৪০ থেকে ৫০ মণ। বাজারে প্রতি মণ মটরশুঁটি বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

আরও পড়ুন:

কৃষক হারেজ মিয়া জানান, প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে মটরশুঁটি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

কৃষকরা জানান, মটরশুঁটি চাষে জমির বিভিন্ন স্তর থেকে গাছ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে, ফলে জমির উর্বরতা বাড়ে। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হয়। মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মটরশুঁটি চাষে খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা এই ফসলে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আমাদের নিয়মিত প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে।’

জেআর