রাজধানীতে অরক্ষিত বৈদ্যুতিক কাঠামো: বাড়ছে ঝুঁকি, আমলে নিচ্ছে না সিটি করপোরেশনের অভিযোগও!

ফ্লাইওভার থেকে তার চুরির দৃশ্য
ফ্লাইওভার থেকে তার চুরির দৃশ্য | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর রাজপথের দু’ধারে বসানো বৈদ্যুতিক কাঠামো যেন অরক্ষিত ভাণ্ডার। প্রকাশ্যেই কংক্রিট ভেঙে কেটে নেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক তার। যাতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ। বারবার অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি খোদ সিটি করপোরেশন। এমন অবস্থায় সামাজিক মূল্যবোধ আর নিরাপত্তার কড়াকড়িই পারে সমাধান আনতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে বৈদ্যুতিক পিলারের গোড়া। কংক্রিটের দেয়ালে গর্ত, ভেতরে নেই তার। আইনের তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে চলে চুরি, যাতে স্পষ্ট নজরদারির অভাব।

এভাবেই চোরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে ফ্লাইওভারের বৈদ্যুতিক অবকাঠামো। একটি বা দুটি পিলার নয়, পুরো ফ্লাইওভারেই এভাবে কেটে নেয়া হয়েছে তার। এতে একদিকে যেমন ব্যহত হচ্ছে আলোকায়ন ব্যবস্থা তেমন ঝুঁকিতে পড়ছেন পথচারীরা।

শুধু এই মগবাজার ফ্লাইওভার নয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ সড়ক ও ব্রিজের নিচে নিয়মিত চুরি যাচ্ছে বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রাংশ।

আরও পড়ুন:

চুরির ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন এলাকা ও ফ্লাইওভারের মধ্যে রয়েছে মিরপুরের বিভিন্ন সেকশন, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা ও পরিকল্পনা কমিশন সড়ক। বিজয় সরণি থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ, কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি মোড়ে নিয়ম করেই চুরি হচ্ছে নিরাপত্তা সরঞ্জাম। বাদ যায়নি ঢাকা দক্ষিণের হানিফ ফ্লাইওভার।

স্থানীয়রা জানান, যখন কেউ না থাকে তখন মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এখান থেকে লাইট চুরি করে। আবার অনেকসময় কেউ দেখলেও কিছু বলে না।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য বলছে, প্রতিবছর গড়ে অর্ধকোটি টাকার লোকসান হয় যন্ত্রাংশ পুনঃস্থাপনে। থানায় ডায়েরি করেও সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ কর্মকর্তাদের।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘জিডি করেছি। একাধিক জায়গায় মামলা করেছি। জিডির কপিগুলো আমরা আমাদের নথিতে সংরক্ষণ করেছি। আসামি ধরে থানায় সোপর্দ করেছি এরকম নজির আমাদের কাছে আছে। এক শ্রেণির লোক আছে যারা রাস্তায় ঘুমায়, রাস্তায় থাকে তারা এ কাজগুলো করছে। ওদের খুব বেশি আইনের আওতায় এনে তাদের একটা ফ্রেমে আনাও কঠিন হয়ে গেছে।’

পুলিশের টহল বাড়ানো ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টির উদ্যোগই পারে প্রতিবছর এই কোটি টাকার লোকসান এড়াতে বললেন এই কর্মকর্তা।

ইএ