গেল বছর প্রায় তিন দশক পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে পাকিস্তান। কিন্তু বেঁকে বসে ভারত। তারা খেলতে যাবে না চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দেশে। আইসিসিও মেনে নিয়ে প্রবর্তন করে হাইব্রিড মডেলের। ভারত তাদের সবগুলো ম্যাচ খেলে দুবাইয়ে।
এবার ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। খেলবে না পাকিস্তান। আবারও হাইব্রিড মডেলে শ্রীলঙ্কাকে ভেন্যু বানানো হয় পাকিস্তানের জন্য। ক্রিকেটের দুই পরাশক্তির দাবি বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিয়েছিল আইসিসি।
অথচ ভারতীয় উগ্রপন্থীদের অব্যাহত হুমকিতে মোস্তাফিজের বাদ পড়ার পর, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জাগলেও আইসিসি চোখ বুজে থাকলো। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুললেও, কানে তোলেনি ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসির এমন অবস্থান তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে, মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ক্রীড়া বিশ্লেষক আহমেদ বিন পারভেজ বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের মনে হচ্ছিলো আইসিসির ইনটেন্টটা সেরকম নেই যে, বাংলাদেশকে অ্যাকোমোডেট করতেই হবে কম সময়ের ভেতরে। এতটা ডেসপারেশন তাদের মধ্যে নেই। ভারত কোনো একটা টুর্নামেন্ট না খেললে যত বড় লস, বাংলাদেশ কোনো একটা টুর্নামেন্ট না খেললে অতবড় লস হবে না। পাকিস্তানও কিন্তু ভারতের সঙ্গে রিলেটেড ইন অ্যা ওয়ে। ইন্ডিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে চায় কারণ সেখানে ব্যবসায়িক লাভটা ম্যাক্সিমাম। সে কারণেও পাকিস্তানকে একটা অ্যাকোমোডেশন দেয়া হয়। লোভটা আসলে দুইদিক থেকেই আছে। এ মুহূর্তে আমার কাছে মনে হয়েছে আইসিসির সিদ্ধান্তটা আনফেয়ার।’
আরও পড়ুন:
সাম্প্রতিক ইস্যুতে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া শঙ্কার বলে জানিয়েছিল আইসিসি। সবশেষ প্রতিবেদনে সেই শঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। এমনকি আইসিসি সভায় ভোটাভুটির রায় গেছে লাল-সবুজদের বিপক্ষে। এক্ষেত্রে বিসিবি কুটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন এ ক্রীড়া বিশ্লেষক।
আহমেদ বিন পারভেজ বলেন, ‘এমন সময় বাংলাদেশ তাদের দাবি জানিয়েছে, যেখানে এ পুরো ব্যাপারটাকেই আসলে রিভার্স ট্র্যাক করে যাওয়ার একটা বিষয় ছিল। শুধু যদি বাংলাদেশ অ্যাস অ্যা টিম থাকতো তাহলে এক কথা ছিল। অন্য অনেক দেশের সঙ্গে ভেন্যু ফিক্সড জেনে ওভাবেই প্রিপারেশন নিচ্ছে। তাদের কনভিন্স করার একটা ব্যাপার থাকতো। ওই জায়গা থেকে আমার মনে হয় বিসিবি আইসিসিকে কতটা সহযোগিতা করতে পেরেছে তাদের কনভিন্স করতে।’
বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার থেকেও এসেছে নির্দেশনা। তবুও বিসিবির যুক্তি না মেনে যেন এ ইস্যুতে বোর্ডকে অনেকটা জোর জবরদস্তিই করছে আইসিসি।





