গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আর পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই: ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আর পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বের শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের পরই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থান নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক। আর্কটিক অঞ্চলটির নিরাপত্তা রক্ষায় ইতোমধ্যে ফ্রান্স, নরওয়ে, ডেনমার্কসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সেনা মোতায়েন করেছে। এছাড়া, ট্রাম্পের সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিপরীতে পাল্টা ব্যবস্থাও নিচ্ছে ইউরোপীয় জোট।

মঙ্গলবার ট্রাম্পের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গত বছরের জুলাইয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূর করতে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরজুলা ভন ডার লিয়েন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক সামিটে যোগ দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্ব বিশৃঙ্খল এক অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মিত্রদের সতর্ক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। জানান, কোনও হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ইউরোপ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। আমরা ষড়যন্ত্র ও বর্বরতা অপেক্ষা বিজ্ঞান এবং আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেই। কাউকে হুমকি দিতে চাই না। শুধু মিত্র দেশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক মহড়ায় যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে, বিশ্বে পুরানো ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না বলেও সতর্ক করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের নিন্দা জানিয়ে তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘আর্কটিক অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর ৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধির ন্যায় নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ন্যাটো সমৃদ্ধকরণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে অটোয়া।’

এছাড়া, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় প্যাকেজ ঘোষণার কথা ভাবছে ইউরোপীয় কমিশন। এসময়, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ভুল বলে জানান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরজুলা ভন ডার লাইয়েন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমাদের দুটি নীতি রয়েছে। প্রথমত ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীন - সার্বভৌমত্বর প্রশ্নে আমরা সমর্থন দিয়ে যাব। দ্বিতীয়ত, আর্কটিক অঞ্চলটিতে আমরা ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দেশে কাজ করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় ওয়াশিংটন ও অন্যান্য অংশীদারদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ইইউ প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের মার্কিন পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, শুল্কারোপ ছাড়াও ভিন্ন কিছু ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক বিকল্প আছে। বেশ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেব। আশা করি ভালো ফল আসবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনায় ন্যাটো বরং খুশি হবে। অন্যদিকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ডেনমার্ক একচুল ছাড় দেবে না বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

এএইচ