খামেনির শাসনের অবসানের গুঞ্জন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা – এমন নানা কারণে বিশ্ব রাজনীতির হর্তা-কর্তাদের নজর যখন ইরানে। তখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম মিত্র দেশ রাশিয়ার নীরবতা জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্নের।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে ২৮ ডিসেম্বর ইরানের শুরু হওয়ার বিক্ষোভ খুব কম সময়েই বদলে যায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর আন্দোলন রুখে দেয়ার দাবি করে তেহরান। পুরো সময়টায় ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা নিয়েই অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা সামলাতে হয়েছে খামেনি সমর্থিত সরকারকে। তবে এ ঘটনাপ্রবাহে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুন:
১৩ জানুয়ারি প্রথম ইরান ইস্যুতে মুখ খোলে রাশিয়া। বাইরের কোনো শক্তি ইরানকে অস্থিতিশীল করতে মদত দিচ্ছে এবং সেই সুযোগে পশ্চিমারা খামেনির শাসনযন্ত্রকে চাপে রাখছে- মঙ্গলবার এমন একটি বিবৃত দিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র দপ্তর। পশ্চিমা দেশগুলো সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র জর্জিয়া, ইউক্রেন বা কিরগিজস্তানে অর্থ বিনিয়োগ করে ও পরামর্শ দিয়ে তথাকথিত ‘কালার রেভুলেশন’ ঘটিয়ে ছিল, কয়েক দশকেও এ ব্যাখ্যা ছেড়ে বের হতে পারেনি মস্কো- এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইরানের গণআন্দোলন নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেননি রুশ প্রেসিডেন্ট। আরেকটু পেছনে তাকালে, ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের নির্দেশে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ ভেনেজুয়েলা থেকে মাদুরোকে তুলে আনার ঘটনায়ও নীরব ছিলেন পুতিন।
আল জাজিরা বলছে, মস্কো আগ্রাসী কোনো বার্তা দিলেও তা আমলে নিতেন না ট্রাম্প। শুধু শুধু হাসির পাত্র হতো রাশিয়া। সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পুতিনের। এছাড়াও ইউক্রেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু ছাড় পাওয়ার আশাও ছাড়তে হতো মস্কোকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিক্ষোভ পরবর্তী ইরান পুনর্গঠনে পাশে দাঁড়ানো ছাড়াও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরামর্শ এবং সহায়তার প্রশ্নে খামেনিকে হতাশ করবেন না পুতিন।

 or Benjamin Netanyahu (right) are projected to win enough seats for a majority-320x167.webp)



