বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলকে হস্তান্তর করা চার মরদেহের মধ্যে শিরি বিবাসের নাম উল্লেখ থাকলেও তার বদলে পাঠানো হয় অজ্ঞাত আরেক নারীর মরদেহ। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভেস্তে যেতে বসেছিল শনিবারের বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া। তবে শুক্রবারই পরিচয় নিশ্চিত করে বিবাসের মরদেহ ফেরত পাঠায় হামাস। ফরেন্সিক ল্যাবে নিয়ে পরিচয় পুনরায় শনাক্ত করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দুই শিশুসন্তান ও স্বামীসহ অপহৃত শিরি ও তার সন্তানদের হামাস খালি হাতে হত্যা করেছে বলে ইসরাইল দাবি করলেও হামাস জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাণ গেছে তাদের।
স্থানীয় একজন বলেন, 'বিবাস পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে এসেছি। শিশু দু'টি এত ছোট ছিল, সাথে তাদের মা। অমানবিক এ ঘটনায় আমরা শোকাহত।'
স্থানীয় অন্য একজন বলেন, 'ক্ষমা চাইতে এসেছি। এই অপহরণের ঘটনায়, এক মায়ের কাছে, তার ফিরতে দেরি হলো, তাই। আমাদের এমন এক সরকার যে কোনো দায়দায়িত্বের তোয়াক্কা করে না। তাই আমাদেরই এ কাজ করতে হচ্ছে।'
এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ১৯ জানুয়ারি থেকে চলমান অস্ত্রবিরতির আওতায় হামাস-ইসরাইলের শেষ বন্দিবিনিময় চলছে শনিবার। এক দশক আগে গাজায় অনুপ্রবেশের পর আটক দুই ব্যক্তিসহ মোট ছয় জিম্মিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মুক্তি দিচ্ছে হামাস। রাফাহ'র আকাশে উড়ছে ইসরাইলি ড্রোন। রাফাহ সীমান্তে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় বন্দিবিনিময়। ইসরাইলি জিম্মিদের হস্তান্তরের পর আজই জন্মভূমিতে ফিরবেন ইসরাইলে কারাবন্দি ৬শ'র বেশি ফিলিস্তিনি।
অন্যদিকে ১৫ মাসের বেশি সময়ের ইসরাইলি আগ্রাসনে বিধ্বস্তপ্রায় গাজায় অস্ত্রবিরতির সুযোগে ফিরতে শুরু করেছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। শেষ ধাপের বন্দিবিনিময়ের পর ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি দ্বিতীয় দফায় গড়াবে না বলে শঙ্কা নিঃস্ব ফিলিস্তিনিদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্রবিরতির দ্বিতীয় ধাপ স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের, যা চায় না দখলদাররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মুসলেহ বলেন, 'প্রথম ধাপে অস্ত্রবিরতি দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল দখলদাররা। এ সময়ে যত বেশি জিম্মিদের ফিরিয়ে নেয়া যায়, সেটাই সাফল্য। কারণ প্রথম ধাপে এছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক চুক্তি বা এর কোনো রাজনৈতিক আকার নেই। সমস্যা হবে দ্বিতীয় ধাপে। কারণ এ ধাপ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এবং স্থায়ী অস্ত্রবিরতির ধাপ, যা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে।'
এদিকে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিকল্প নিয়ে সৌদি আরবে চলছে আরব নেতাদের বৈঠক। গাজা উপত্যকা কিনে নেয়া বা আত্মসাতের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না বলে আশ্বাস দিলেও পরামর্শ এটাই থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

 weapon at Eglin Air Force Base, Florida-320x167.webp)



