স্বাস্থ্য
দেশে এখন
১৫ হাজার কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন ডা. লুৎফর
১৫ হাজার কার্ডিয়াক সার্জারির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অধ্যাপক ডা. লুৎফর রহমান। দুই যুগ ধরে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে সব ধরনের জটিল বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন করে তিনি দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এসব সার্জারিতে ৯৯ শতাংশ সফলতা পেয়েছেন বলে জানান এ চিকিৎসক।

হার্টে তিনটি ব্লক থাকা এক মধ্যবয়সীর প্রায়ই বুক চেপে আসতো, কোনো কাজই করতে পারতেন না। তার পরিবার ও অফিসের বেশ ক'জনের বাইপাস সার্জারি সফল হওয়ায় তিনিও অপারেশন করান কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে দিয়ে। কয়েক ঘণ্টায় সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে টোটাল আর্টারিয়াল বাইপাস সার্জারির পর সম্পূর্ণ সুস্থ করছেন এই ভুক্তভোগী।

ডা. লুৎফর রহমান কথা বলছেন তার অপারেশন করা রোগীর সাথে। ছবি: এখন টিভি

তিনি বলেন, 'যখন আমার বড় ভাই, অফিসের বস এই অপারেশন করেছে তার কাছে থেকে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে দিয়েই আমি সার্জারি করাবো।'

২০০৪ সাল থেকে ২০ বছরে শুধু ল্যাবএইডেই ১২ হাজার কার্ডিয়াক সার্জারির মাইলফলক স্পর্শ করেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এর আগে অন্য হাসপাতালে করেছেন আরও ৩ হাজারের মতো। আশার খবর হলো, এসব সার্জারিতে ৯৯ ভাগ সফলতা পেয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, '২০০০ সালের পর থেকে আমরা কার্ডিয়াক সার্জারিকে মর্ডানাইজ করি। প্রাইভেট সেক্টরে স্টাবলিশ করার চেষ্টা করি। রোগীরা তখন ভারত, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক যেত। একসময় রোগীরা আস্থাহীনতায় ভুগছিল। ২০২৪ সালে পূর্ণ সফলতা দেখতে পাচ্ছি।'

বর্তমানে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর কার্ডিয়াক সার্জারি করতেই বেশি চ্যালেঞ্জ নেন এই সার্জন। বিটিং হার্ট বাইপাস, টোটাল আর্টারিয়াল বাইপাস সার্জারি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সেন্টার থেকে ফিরিয়ে দেয়া রোগীদের বাইপাস সার্জারি হরহামেশাই করে থাকেন অভিজ্ঞ এই কার্ডিয়াক সার্জন।

ডা. লুৎফর রহমান বলেন, 'প্রথম দিকে আমরা ৩০ শতাংশের নিচে কেসগুলো সিলেক্ট করতাম। কিন্তু প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সেজন্য আর সিলেক্ট করি না।'

সার্জারি করার সময় অপারেশন থিয়েটারের ভিতরের দৃশ্য। ছবি: এখন টিভি

এছাড়াও হৃদরোগীদের নিয়মিত মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি ও অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করছেন তিনি। সর্বাধুনিক এসব সার্জারি বিদেশের ৩ থেকে ৪ গুণ কম খরচে সম্পন্ন করছেন।

ল্যাবএইডে ২৫ থেকে ৩০ জনের দক্ষ টিমকে ২০ বছর থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লুৎফর রহমান। টিমের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়া এই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মত কার্ডিয়াক সার্জন গোলাম রব্বানীর।

তিনি বলেন, 'স্যার কাজের যে ফ্রিডম দিয়েছে। সেখান থেকেই অনেক কিছু শিখেছি। কিছু কিছু কেস অনেক ক্রিটিক্যাল হয়। সেগুলো কী করলে ভালো হয়, স্যার আমাদের সবাইকে নিয়ে বসেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং সে অনুযায়ী কাজ করা হয়।'

যে কয়েকজন কার্ডিয়াক সার্জনের নিরলস চেষ্টায় বাংলাদেশ বিশ্বমানের কার্ডিয়াক সার্জারিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ- তাদের মধ্যে অন্যতম এই চিকিৎসক। বাংলাদেশের কার্ডিয়াক সার্জারিকে আরও নিরাপদ করতে ও সবকটি সেন্টারকে বিশ্বমানে আনতে তরুণ সার্জনসহ সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা আশ্বাস দিলেন এই স্বনামধন্য সার্জন।

এমএসআরএস