দেশে এখন
১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ বিভাগে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৪ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (সোমবার, ২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে এ পদক তুলে দেন তিনি।

একাত্তরে যে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল আজ সে পঞ্চাশোর্ধ। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি আজ অনেকটাই পরিণত। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় সমাজের নানা স্তরে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতে প্রতিবছর দেয়া হয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।

সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাত বিভাগে ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সরকারপ্রধান।

এরপর দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তিরা তাদের প্রাপ্তি আর বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধানের সামনে।

এরপরই প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সম্মানিত ব্যক্তি। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছেন। তাদের সম্মান দেওয়া এবং আমাদের এই গৌরব যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি।'

প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে দেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, 'একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যেতে পারে, উন্নতি করতে পারে তার প্রমাণ  আমরা করেছি। ২০০৯ এ সরকার গঠন করে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করে আজকে বাংলাদেশকে অন্তত বিশ্বে মর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে অদিষ্ট করতে সক্ষম হয়েছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ‌উন্নত-সমৃদ্ধ।  আমাদের জনগোষ্ঠী হবে দক্ষ জনগোষ্ঠী। আমাদের সরকার স্মার্ট সরকার।  আমাদের অর্থনীতি স্মার্ট অর্থনীতি। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা স্মার্ট সোসাইটি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো।'

স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকার প্রধানের কণ্ঠে উঠে আসে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন প্রসঙ্গ। এসময় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইল কতৃক যে গণহত্যা চালানো হচ্ছে তার তীব্র প্রতিবাদ জান্নাচ্ছি এবং আমরা ফিলিস্তিনিদের সাথে আছি। আমরা যুদ্ধ চায় না, শান্তি চায়।'

এবার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিনজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একজন ও চিকিৎসাবিদ্যায় একজন এ পুরস্কার পেলেন। তারা হলেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে কাজী আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক (মরণোত্তর) এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু নঈম মো. নজিব উদ্দীন খাঁন (খুররম) (মরণোত্তর)।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন ড. মোবারক আহমদ খান। আর চিকিৎসাবিদ্যায় পুরস্কার পেয়েছেন ডা. হরিশংকর দাশ।

এছাড়া, সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, ক্রীড়ায় ফিরোজা খাতুন স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সমাজসেবা বা জনসেবা ক্যাটাগরিতে পদক পাওয়া তিনজন হলেন, অরণ্য চিরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী ও এস.এম. আব্রাহাম লিংকন।

দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া হয়। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

এসএসএস