দেশে এখন
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যেন দালালের আঁতুরঘর
মুন্সীগঞ্জে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানিসহ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। আবেদনকারীরা বলছেন, দালাল ছাড়া কাজ হয় না। যদিও সহকারী পরিচালকের দাবি, তার অফিস দালাল মুক্ত। ভুক্তভোগীরা জানান, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বহাল থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির জন্য তৈরি হচ্ছে অব্যবস্থাপনা।

পাসপোর্ট নিজের পরিচয় বহন করে। দেশের সীমানা পার হতে বৈধ পাসপোর্টের বিকল্প অন্য কিছু নেই। সেই পাসপোর্ট হাতে আসার পর অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে শব্দের প্রয়োগ, ঘটনা, গল্পতেও থাকে মানুষের তিক্ততা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায়ও নিজ দপ্তরে আসেননি উপ-পরিচালক। অপেক্ষার পালা শেষ করে ভবনের নিচে যেতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

সেবার মানে কতটুকু খুশি গ্রাহক জানতে গিয়ে জানা গেল এ অফিসের দেয়াল জুড়ে অনিয়মের চিত্র আঁকা।

সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন, নানা অনিয়মে ঠাসা মুন্সীগঞ্জ জেলার এ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। জন্মনিবন্ধন সনদ, সত্যায়িত করার সিল সবই আছে বহিরাগতদের কাছে। অভিযোগ আছে নির্ধারণ করা ফি থেকেও বেশি টাকা খরচের।

সেবাগ্রহীতারা বলেন, ‘তারা শুধু পেপার নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। আমরা সব ডকুমেন্ট দেয়ার পরেও তারা বলে যে মিসিং আছে। তারা সার্ভারের সমস্যা দেখায়।’

মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের একাংশ। ছবি: এখন টিভি

অভিযোগ রয়েছে, এ অফিসের বেশিরভাগ লোক আবেদনকারী নন। বাইরের ফটোকপির দোকানের মালিক আর কর্মচারী। স্কেনিং, ডাটা এন্ট্রি, সার্ভার রুমে বাধাহীন চলাচল আছে অফিস সহকারী আর আনসার সদস্যদেরও।

সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে লোকবল সংকট রয়েছে। তাই কিছু জায়গায় ছন্দপতন হয়ে যায় বলে জানান মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেন খন্দকার।

তিনি বলেন, 'আমাদের তো এতো লোকবল নাই। তাই তারা সহযোগী হিসেবে কাজ করে।'

এ ব্যাপারে কিছু বলার ক্ষমতা রাখেন না, ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু।

তিনি বলেন, 'আপনি (সাংবাদিককে) বুঝেন না আমরা সরকারি চাকুরী করি। বিধির বাইরে কিছু করতে পারি নাকি বলেন? আমার ডিজি বুঝবেন উনি অনেক কিছু জানেন, আমার চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল।'

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'গবেষণা ও জরিপ বলছে এটি দুর্নীতিগ্রস্থ একটি খাত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অনিয়মের সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।'

এই পাসপোর্ট অফিস থেকে মাসে ৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। নাগরিকদের পাসপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে দেশে ৬৪টি জেলায় অবস্থিত ৬৭টি অফিস রয়েছে।

এভিএস