দেশে এখন
সাভার-ধামরাইয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে মাছ
ঢাকার অদূরে নদ-নদী বেষ্টিত শিল্পাঞ্চল সাভার-ধামরাই। যেখানে কয়েক লাখ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে বছরে দরকার হয় ৪২ হাজার ৩১ টন মাছ। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার ৭০৯ টন। নদ-নদী ও জলাশয় থাকা সত্ত্বেও শিল্পবর্জ্যে আশঙ্কাজনক হারে মাছ উৎপাদন কমছে।

সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের দখল-দূষণে আক্রান্ত। কলকারখানার বর্জ্যে বংশী ও ধলেশ্বরীর স্বাভাবিক ধারা-প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় বাড়ছে না মাছের আকার। পৈত্রিক পেশা হারিয়ে অনেকে খুঁজে নিয়েছেন জীবিকার ভিন্ন উপায়। তবে এখনও কেউ কেউ বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে আছেন।

জেলেরা বলেন, ‘আমরা বাপ-দাদার পেশা নিয়ে বেঁচে আছি। আগে নদীতে ভালো মাছ পাওয়া যেতো। পানি দূষিত হওয়ার কারণে এখন মাছ পাওয়া যায় না।’

এ অবস্থায় সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়া অঞ্চলে আমিষের চাহিদা পূরণে ছোট ছোট পুকুর বা কৃত্রিম জলাশয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চাহিদার সঙ্গে যোগান বাড়াতে কয়েকশ' খামারে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশসহ কার্পজাতীয় বিভিন্ন মাছ চাষ হচ্ছে। তবে সেখানেও শিল্প-বর্জ্যসহ ইটভাটার দূষণে মাছের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এক খামারি বলেন, ‘নদী-নালা দূষণ হওয়ার কারণে আমরা বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করি। তবে পানি দূষিত হওয়ায় এসব মাছ আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা রপ্তানি করতে পারছি না।’

স্থানীয় মৎস্য খামারিরা বলছেন, মাছের খাদ্যে ভেজাল, নদ-নদী ও পরিবেশ দূষণ রোধে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় তাহলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। আর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সাভারের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান সরকার বলেন, ১০ বছর আগেও নদীতে মাছ পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন তেমন মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রয়োজনীয় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় দূষণের পরিমাণও বাড়ছে।

সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ট্যানারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইটভাটার দূষণ ঠেকাতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি।’

এওয়াইএইচ