দেশে এখন
শিক্ষা
শরীয়তপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের ছাপ
নিয়ম লঙ্ঘন করে বেতন আদায় করা হচ্ছে শরীয়তপুরের মাধ্যমিক স্কুলের উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা গাইড বই পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের খরচ মেটাতে দরিদ্র হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো।

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শরীয়তপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৯টি। সরকারি শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ৯ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ থাকবে। অথচ নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরো বেতন আদায় করছে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ ওঠা এমন স্কুলের তালিকায় আছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলীয়া সমিতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়। মওকুফের নিয়ম না মেনেই এখানকার উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় বেতন। ৪ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা না হলেও এই খাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১২০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের নামে বছরে চারবার নেয়া হয় ফি। এখন টেলিভিশনের হাতে আসা একটি গোপন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সহকারি শিক্ষকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই জন্য গাইড বইয়ের কোম্পানি কিছু টাকা দিয়েছে বলেও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করছেন তিনি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও।

শিক্ষার্থীরা জানায় উপবৃত্তি পাওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে পুরো বেতন রাখা হয়। এছাড়া উন্নয়ন ফি, খেলাধুলার নামেও টাকা নেয়া হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের বিভিন্নভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদেরও। বলেন, বেতন বেশি করে ধরে আবার বাচ্চা স্কুলে না গেলে জরিমানাও নেয়।

শিক্ষার্থীদের গাইড কেনার পরামর্শ দেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ।

তবে উপবৃত্তি প্রাপ্তদের কাছ থেকে বেতন আদায়সহ অন্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিতলীয়া সমিতির হাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ। বলেন, 'এটা সত্য কথা না। তারা কিভাবে দিয়েছে তা জানি না। কিন্তু যারা উপবৃত্তি পায় তাদের কাছ থেকে কোন বেতন আমরা নেই না। আর গাইড বইয়ের বিষয়ে আমরা কাউকে উৎসাহিত করিও না।'

একইচিত্র শরীয়তপুরের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা রেহাই পাচ্ছে না বেতনের খড়গ থেকে। শিক্ষকদের চাপে গাইড বই কিনতে গিয়ে বিপাকে অভিভাবকরা।

অনিয়মের অভিযোগ এড়িয়ে গেছেন আবু তালেব মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জ্বল হোসেন। বলেন, 'আমরা গাইড কেনার জন্য সাপোর্ট করছি না। আর উপবৃত্তি যারা পাচ্ছে তাদের বেতন মওকুফ আছে।'

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে এমন অনিয়ম করছেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র শর্মা। বলেন, 'একমাত্র বিনামূল্যে পাঠ্য বই শিক্ষার্থীদের পড়ানো যাবে। কোন গাইড বই পড়ানো যাবে না। যদি আমরা অভিযোগ পাই তাহলে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'

শিক্ষাক্ষেত্রের এমন অনিয়ম দূর করার দাবি জেলার শিক্ষার্থীদের।

এভিএস