জামা, জুতো, ইলেকটনিক্স ডিভাইসসহ নানা প্রত্নতত্ত্ব উপকরণে সয়লাব পুরো জায়গা। প্রথম দেখায় আপনার মনে হতেই পারে এটি শপিংমল। আদতে এটি একটি দোকান, যেখানে বেচাকেনা হয় হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বদিকে অবস্থিত অঙ্গরাজ্য আলাবামা। ছোট এই শহরে ৫০ হাজার বর্গফুটের দোকানে বিক্রি হয়, বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগসহ এর ভিতরে থাকা নানা পণ্য।
ভ্রমণের সময় বিমানবন্দরে কারও ব্যাগ বা লাগেজ হারিয়ে গেলে, ৩ মাসের মধ্যে সেই ব্যাগ খুঁজে গ্রাহকের কাছে ফেরত দেয়ার নিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর ব্যর্থ হলে বীমার ভিত্তিতে যাত্রীদের মেলে ক্ষতিপূরণও। যদিও, দীর্ঘ এই সময়ে অনেকেই আবার এড়িয়ে যান ঝক্কি-ঝামেলা। খোঁজ নেন না হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের।
নির্দিষ্ট সময় শেষে খুঁজে পাওয়া এসব ব্যাগ নিলাম করে বিভিন্ন লাগেজ সেন্টারে বিক্রি করে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সাধারণত কয়েকটি ভাগে সম্পন্ন করা হয় এই নিলাম কার্যক্রম। প্রথম ভাগে, ব্যাগেজ সেন্টারে অনেক ব্যাগ দিয়ে দেয়া হয় বিনামূল্যে। দ্বিতীয়ত, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিষয়ে লক্ষ্য রেখে ব্যাগের নিলাম করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
আলাবামা অঙ্গরাজ্যে তেমনই জনপ্রিয় একটি দোকান আনক্লেইমড ব্যাগেজ সেন্টার। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানে বিক্রি হয় হারিয়ে যাওয়া মালামাল। নিলামে বিমানবন্দর থেকে ব্যাগ কিনে এর ভেতরে থাকা পোশাকসহ নানা জিনিসপত্র বিক্রি হয় এ দোকানে।
নির্দিষ্ট এসব ব্যবহারযোগ্য পণ্য অনেকটা কম দামেই কিনতে পারেন ক্রেতারা। যার চাহিদাও রয়েছে বেশ। প্রতিদিনিই দোকানে ভিড় করেন হাজারও ক্রেতা।
৭০ দশকে একটি পিকআপভ্যান দিয়ে শুরু করা এই ব্যবসা, এখন ছাড়িয়েছে বিলিয়ন ডলারে। আনক্লেইমড ব্যাগেজের রিটেল অ্যান্ড কোম্পানিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২৬ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন জেনিফার ক্রিটনার।মার্কিন মুল্লুকে ভিন্নধর্মী এই ব্যবসার শুরু প্রথম দিকে গল্প জানালেন কর্মকর্তা।
'আনক্লেইমড ব্যাগেজ এর ব্যবসা ১৯৭০ সালে শুরু করেন ডয়েল ওয়েন্স। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ৩০০ ডলারের বিনিময়ে নিলামে ১১০টি ব্যাগ কিনে আনেন তিনি। এরপর পত্রিকায় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে, ধার করা একটি পিকআপ ট্রাকে শুরু করেন বিক্রি। প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে যায় সব ব্যাগ। এরপরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ারর।'
জেনিফার জানান, বিভিন্ন ব্যাগ থেকে মাঝে মধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব দামী জিনিসপত্র পান তারা। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ইলেকট্রনিক্স পণ্য। বাছাই শেষে, নির্দিষ্ট ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয় এসব পণ্য। আর প্রত্নতত্ত্ব জিনিসগুলো সাজিয়ে রাখা হয় দোকানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে।
জেনিফার আরও বলেন, "আপনি কখনই জানেন না, একটি ব্যাগেজে আপনি কী পাবেন, এটি একটি গুপ্তধনের মতো। আমরা হরেক রকম ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পাই, অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু পাওয়া যায়। আমরা সাধারণত খুচরা মূল্যের ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়ে এসব জিনিসপত্র বিক্রি করি। বিভিন্ন ব্যাগে পাওয়া প্রায় এক তৃতীয়াংশ পণ্যই আমরা বিক্রি করি। কিছু পণ্য দান করে দেই।"
১৯৯০ দশক থেকে এই দোকানের একজন নিয়মিত ক্রেতা হলেন সুসান বোটম্যান। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রায় এখান থেকেই কেনাকাটা করেন তিনি। জানান, কম দামে এই দোকানে পাওয়া যায় চাহিদা মতো সকল পণ্য।
বোটম্যান বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের কোনো এক সময়ে, আমার শাশুড়িকে নিয়ে প্রথম এই দোকানের সন্ধান পাই। আমার প্রায় ৬ ঘণ্টা শপিং করেছি। এরপর থেকেই আমি তাদের নিয়মিত একজন ক্রেতা। আজ আমি আমার স্বামীকে নিয়ে এসেছি ৪ ঘণ্টা সময় রয়েছে, বাচ্চাদের পোশাক কিনবো। এই দোকান থেকে ব্রেসলেটসহ খুব সস্তায় অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র কেনাকাটা করা যায়।’
বর্তমানে আলাবামায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই আনক্লেইমড ব্যাগেজ সেন্টার। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকেও প্রতিদিন কেনাকাটা করতে আসেন ক্রেতারা। বেচাবিক্রির প্রসারে এরইমধ্যে একটি ওয়েবসাইটও খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া এসব পণ্য বিশ্বব্যাপী বিক্রি করতে চান ব্যবসায়ীরা।





