যশোরে মিষ্টি আঙুর চাষে সাফল্য; আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

যশোরে মিষ্টি আঙুর চাষ
যশোরে মিষ্টি আঙুর চাষ | ছবি: এখন টিভি
0

যশোরে বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি জাতের আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আঙুরের ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন। আর ঝুলন্ত আঙুর দেখে অনেকে আঙুর চাষে উৎসাহীও হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। ইউটিউব দেখে আঙুর চাষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে চাষ শুরু করেন।

২০২৫ সালে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রেড গ্লোব জাতের ২০০টি আঙুর গাছের চারা সংগ্রহ করে ৩৭ শতক জমিতে রোপণ করেন তিনি। গাছের বয়স ৭ মাস পেরোতেই সুমিষ্ট ফল আসে সেই গাছে।

আঙুর চাষি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, ‘আমার বড় ভাই প্রথমে লাগাইছিল, ওটা দেখেই পরে আমি লাগিয়েছি। এবং বেচাকেনা চলতেছে, লাভবান হব আশা করা যায়।’

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর আঙুর খেত দেখতে ভিড় করছেন। দেশের মাটিতে আঙুরের চাষ দেখে অভিভূত তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা জানান, আগে তারা টিভিতে দেখতো। এখন তা বর্তমানে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ দিকে জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর আঙুর চাষ দেখে বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকে। কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চারা। আঙুর চাষ পদ্ধতি শিখে অনেকে আঙুর চাষ করতে চান।

একজন বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের মাটিতেও যে এতো সুন্দর আঙুর হয়, তা আসলেই এ জিনিসটা না লাগালে বুঝতে পারতাম না।’

দেশে আঙুর চাষ বাড়লে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। তাই কৃষকদের উৎসাহী করতে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আগামি ৫ বছরের মধ্যে যশোরের মাটিতে আঙুর চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবুল হাসান বলেন, ‘নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি আমাদের কৃষক ভাইদের। ফলনও ভালো পেয়েছে এবং তারা লাভজনক অবস্থানে আছে। আমরা আশা করছি আগামী চার-পাঁচ বছরের ভিতরে আমরা হয়তো আঙুরে একটা বিপ্লব ঘটাতে পারবো বলে আমরা আশা করছি।’

দেশিয় ফল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার নাম যশোরের আঙুর চাষ। চলতি বছরে জেলায় ৮ হেক্টর জমিতে এর চাষ হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ। সঠিক সহায়তা পেলে এই ফল বিদেশ থেকে আমদানির পরিবর্তে রপ্তানি করার সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

জেআর