প্রবাসী জামাল হোসেন প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন গরুর খামারে। শতাধিক গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মীরা। তার খামারে বড় গরুর দাম ২ থেকে ৬ লাখ। কুমিল্লায় এমন তিন সহস্রাধিক খামারির পশু পরিচর্যার ব্যস্ততায় অনিশ্চয়তার ছাপ।
একজন খামারি বলেন, ‘এ বছর চ্যালেঞ্জটা বেশি হয়ে গেছে শুধু একমাত্র যুদ্ধের কারণে এখন তেলের দাম বেড়ে গেছে, আগে একটা উত্তরবঙ্গ থেকে গরুটা আনার জন্য ৩০ হাজার টাকা লাগত, এখন ৫০ হাজার, ৪৫ হাজার টাকা লাগে। আবার লেবার খরচটাও বেড়ে গেছে।’
খামারিদের অভিযোগ, গত এক বছরে গো খাদ্য ও ওষুধের দাম ব্যাপক বেড়েছে। সেই সঙ্গে শ্রমিক খরচও আগের তুলনায় বেশি। অনেকেই ঋণ নিয়ে পশু লালন-পালন করেছেন। ন্যায্যমূল্য না পেলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তো রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা বড় গরু নিয়ে।
খামারিরা জানান, ‘প্রত্যেকটা খামারিই কমবেশি ব্যাংক ঋণ আছে। ঋণগুলো অনেক সময় এ খামারের লসের কারণে আবার ঋণখেলাপি হয়ে যায়।’
কোরবানীকে কেন্দ্র করে জেলার ১৭টি উপজেলায় গরুর খামারে বিনিয়োগ করেন অসংখ্য উদ্যোক্তা। ছোট পারিবারিক খামার থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক খামার- সবখানেই এবার বিনিয়োগ বেড়েছে কয়েকগুণ। কয়েক মাসের শ্রম, ঋণ আর স্বপ্ন কোরবানীকে ঘিরে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার পশু। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১২ হাজার পশু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, খামারিদের নিরাপদ ও লাভজনক বাজার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন,‘সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যদি পশু চলে আসে, তাহলে দেখা যাবে কী যে, সে যেই পরিমাণ ব্যয় হলো : পশুটা নিতে, বাহির থেকে পশু যদি সে অর্ধেক দামে যদি ক্রেতা যদি পেয়ে যায়, সীমান্ত দিয়ে পাড়ি দিয়ে চলে আসে, তাহলে কিন্তু লোকাল যে খামারিরা, তারা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমরা খুব সজাগ দৃষ্টি রাখছি।’
এদিকে পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি।
