গোয়ালগাদ্দা সিম, সাতকড়া, জাড়ালেবু ও শীতকালীন নানা সাইট্রাস ফলসহ কৃষি উৎপাদনের এক সম্ভাবনাময় অঞ্চল সিলেট। উৎপাদিত পণ্যের বড় একটি অংশের চাহিদা রয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে। নানা সংকটে এসব পণ্য রপ্তানি করা যায় না। উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি আয়ের এই বিশাল ব্যবধান দূর করতে ‘সিলেট প্যাকিং হাউজ কাম কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্যাকিং হাউজ না থাকায় দিন দিন ব্যবসা কমছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটের কৃষিজ, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে, আসবে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। একই সঙ্গে কৃষকরাও পাবেন ন্যায্য মূল্য।
সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘রপ্তানি দ্রব্য রপ্তানি করার মত যদি স্বয়ং সম্পূর্ণ ভূমিকা এখানে পালন করা হয়, তাহলে সিলেটের পণ্য আরো বেশি যাবে, সিলেটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইট ডেভেলপ হবে, আরো ইন্ডাস্ট্রিয়াল নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রি হবে।’
সিলেট শাবিপ্রবির অধ্যাপক ও গবেষক ড. ফজলে এলাহী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে তাদের উৎপাদন যে এত কষ্ট করে উৎপাদন করে, কিন্তু প্রকৃত মূল্য বা ন্যাজ্যমূল্য তারা পায় না। তো এক্ষেত্রে যদি এই প্যাকিং হাউজটা হয় কাম কোল্ড স্টোরেজটা হয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা একটা ভালো মূল্য পাবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিনিয়তই প্রচুর সবজি বিদেশে যাচ্ছে। পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির অবকাঠামো গড়ে উঠলে কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন, অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।
আরও পড়ুন:
সিলেট বিভাগের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, ‘কৃষকরাও যে নতুন নতুন প্রযুক্তি সেগুলা থেকে তারা অনেকটাই পিছনে। তাদেরকে সেই জায়গায় নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এ যাব আমরা। যেমন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কিছু কমপ্লায়েন্স আছে সেগুলো এনসিওর করার পরে আমরা সেই পণ্যগুলা আমরা রপ্তানি করব।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জামুরা কান্দি মৌজা। সেখানে আমরা কিছু খাস জমি পেয়েছি এবং সেখানে প্যাকেজিং হাউজ করার মতো অবস্থা আছে, এয়ারপোর্টে খুবই কাছাকাছি। দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে।’
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮০ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা। মেয়াদ চার বছর হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রী।
বাণিজ্য মন্ত্রণালযয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্যাকিং হাউজ হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে কাজ করছি। আগামী দিনে প্যাকিং হাউজও সিলেটে হবে। আর সিলেট বাংলাদেশের মধ্যে শাকসবজি রপ্তানির প্রধানতম কেন্দ্রে পরিণত হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প সম্পন্ন হলে ৫ বছরের মধ্যে কৃষিপণ্য রপ্তানি ৩০ শতাংশ বাড়বে এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ১০-১৫ শতাংশ।




