বিশ্বকাপ শুধু নতুন নায়কের জন্ম দেয় না, বিদায় জানায় অসংখ্য কিংবদন্তিকেও। চার বছর পর আবার যখন ফুটবল বিশ্বকাপ ফিরবে তখন হয়তো আর দেখা যাবে না সেই চেনা মুখগুলোকে। এবারের বিশ্বকাপ তাই অনেকের জন্যই শুধুই একটি টুর্নামেন্ট নয়, ছিলো শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার সুযোগ।
লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার জুনিয়র, লুকা মদ্রিচ, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু, থিবো কোর্তোয়া, হামেস রদ্রিগেজ— বিশ্ব ফুটবলে কিংবা নিজ দেশের ফুটবলে যাদের নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। অনেকের বিশ্বাস ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়ে গেলো বিশ্বমঞ্চে তাদের শেষ পদচারণা।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে গড়েছেন সর্বাধিক অ্যাসিস্ট, অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ ও সর্বাধিক জয়ের মতো একাধিক রেকর্ড। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ শিরোপাও। এবারও দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। যদিও দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতা হয়নি তার দলের। তবে পরের বিশ্বকাপে যে তাকে আর দেখা যাচ্ছে না সেটি অনেকটাই নিশ্চিত।
আরও পড়ুন:
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও খেলেছেন ছয়টি বিশ্বকাপ। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হয়নি এই পর্তুগিজ মহাতারকার। ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের পরের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না সেটিও অনেকটাই নিশ্চিত।
ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলে জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে এনে দেন তৃতীয় স্থান। এই ক্রোয়াট তারকার বিশ্বকাপযাত্রাও থেমেছে এবার।
নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রও। কখনো ট্রফি না জেতার আক্ষেপ সঙ্গী হচ্ছে তার।
২০১৪ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন হামেস রদ্রিগেজ। এরপর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। এবার অনেকটা নীরবেই খেলে ফেলেছেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ।
কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও থিবো কোর্তোয়া ছিলেন বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের কান্ডারী। যদিও বিশ্বকাপে নেই তাদের বিশেষ কোন অর্জন। আগামী আসরে দেখা যাবে না এই ক্লাব তারকাদেরকেও।
সময় থেমে থাকে না। নতুন তারকারা আসবে, নতুন গল্প লেখা হবে কিন্তু এই কিংবদন্তীদের অবদান কখনোই মুছে যাবে না।
