মাঠের লড়াইয়ে কাগজে কলমে এগিয়ে ছিলো জার্মানি। শক্তি কিংবা র্যাংকিং— সব দিক থেকেই পরিষ্কার ব্যবধান ছিলো প্যারাগুয়ের সঙ্গে।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করে প্যারাগুয়েকে কোণঠাসা করতে থাকে জার্মানি। কিন্তু হঠাৎ-ই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে হুলিও এনসিসোর দুর্দান্ত এক হেডে লিড নেয় প্যারাগুয়ে। পরে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় হুলিয়ান নাগাল্সম্যানের শিষ্যরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ডাই মানশাফটরা। ৫৪ মিনিটে কাই হাভার্টজের চোখ ধাঁধানো হেডে সমতায় ফেরে জার্মানি। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিট খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেও গোল করতে ব্যর্থ হয় জার্মানির ফরোয়ার্ডরা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
আরও পড়ুন:
১২০ মিনিটের যুদ্ধ শেষে ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে চরম স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়ে জার্মান শিবির। কাই হাভার্টজ, নিক ভলটেমেড এবং জোনাথান তাহের মতো তারকারা সুযোগ মিস করলে, ভাগ্য সহায় হয় প্যারাগুয়ের। শেষ শটে হোসে কানাল জাল কাঁপাতেই ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে বুনো উল্লাসে মাতে প্যারাগুয়ে।
এই ম্যাচ দিয়ে ডাই মানশাফটরা এক লজ্জাজনক রেকর্ডেও নাম লেখালেন। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিলো জার্মানি, আর সেখানেই এই চরম বিপর্যয়।
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে কোনোমতে সেরা তৃতীয় দল হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা প্যারাগুয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিলো—ফুটবলে আসলে ফেভারিট তকমা সবসময় পক্ষে কথা বলে না।





