বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ম যেন এক ঠুনকো কাচের দেয়াল! যখন খুশি, যেভাবে খুশি কোনো ক্লাব চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো খেলার সময় নির্ধারণ করতে পারে। এটা হয়তো বাংলাদেশ বলেই সম্ভব। এইতো তিন চার বছর আগেও হঠাৎ করে ক্লাবের সূচি পরিবর্তনের বাজে সংস্কৃতি ছিল দেশের ঘরোয়া ফুটবলে। তবে সেই চর্চা কয়েক মৌসুম বন্ধ থাকলেও আবারও বিভিন্ন অজুহাতে সময়সূচী পরিবর্তনে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের অপসংস্কৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ম যেন এক ঠুনকো কাচের দেয়াল! যখন খুশি, যেভাবে খুশি কোনো ক্লাব চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো খেলার সময় নির্ধারণ করতে পারে। ফেডারেশন নয়, সূচি হতে হবে ক্লাবগুলোর মন-মর্জিমতো!
নানা আলোচনা-সমালোচনা আর এক দফা পেছানোর পর গেল ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় দেশের শীর্ষ স্তরের লিগ। এক রাউন্ড পর আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল ঘরোয়া ফুটবলের আরেক আসর ফেডারেশন কাপের। তবে প্রথম দিনেই ক্লাবগুলোর কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো বাফুফে।
সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো তিনটি ম্যাচ। তবে এক চিঠিতেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় বাফুফের সাজানো সূচি। নির্ধারিত সময়ে কেবল মাঠে গড়িয়েছে ফর্টিস এফসি ও ফকিরেরপুলের মধ্যকার ম্যাচটি। তবে আবাহনী বনাম চট্টগ্রাম সিটি এফসি এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন বনাম রহমতগঞ্জের মধ্যকার ম্যাচ দু'টি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তাও ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে! ততক্ষণে ভেন্যুতে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম সিটি এফসি।
চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহামামদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ফেডারেশন তো চাইছে ঠিকমতো ওইটা সিডিউলটা ঠিকমতো মেইনটেইন করার জন্য। এখন তো বড় ক্লাবগুলোর জন্য হচ্ছে না হয়তো। আমরা সবসময় ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের সবসময় আমরা সম্মান দিয়ে আমরা সবসময় এই ঢাকার খেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
এই নাটকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছিল আরও আগে। বিশেষ বিবেচনায় মোহামেডানের লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ সাত দিন পিছিয়ে দেয় বাফুফে। আর তাতেই বেঁকে বসে আবাহনী ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ৪ খেলোয়াড় ও ইনজুরির অজুহাত দেখিয়ে বাফুফেকে চিঠি দেয় আবাহনী। সেই চিঠির চাপে ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ম্যাচ পেছানোর খবর জানানো হয়।
মৌসুম শুরু হতে না হতেই সূচি নিয়ে এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা বাফুফের প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চরম অদূরদর্শিতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একইসঙ্গে ক্লাবগুলোর কাছে বাফুফে কতটা নতজানু তারও প্রমাণ হয়ে ওঠে এ ধরনের একেকটি ঘটনা।





