২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে ইতালির ফুটবল। পরের দুই বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ২০১৮ ও ২০২২ এবং ২০২৬, পরপর তিন বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতেই ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ ব্যর্থতার পর জাতীয় দলের ডাগআউটেও শুরু হয় অস্থিরতা। কোচ পরিবর্তন নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। এর মধ্যেই টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব ছাড়লেন কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি। ফলে ইতালিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেড়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের শুরুটা অনেক গভীরে। দেশের শীর্ষ লিগে স্থানীয় তরুণদের সুযোগ কমে যাওয়া, বয়সভিত্তিক ফুটবল উন্নয়নে ধারাবাহিক পরিকল্পনার অভাব, এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইতালির প্রতিভা তৈরির পথকে সংকুচিত করেছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রশাসনিক অস্থিরতা। কোচ বদল, এবং ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জাতীয় দলের জন্য স্থায়ী একটি ফুটবল দর্শন গড়ে ওঠেনি। ইতালিয়ান ফুটবলের সংকটের আলোচনায় বারবার উঠে আসে সংগঠিত অপরাধচক্রের প্রভাবের অভিযোগও। অতীতে বিভিন্ন ক্লাব, টিকিটের কালোবাজারি এবং আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় মাফিয়া-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কেরও নাম এসেছে তদন্তে।
২০০৬ সালে বহুল আলোচিত ক্যালচিওপোলি কেলেঙ্কারিতে ম্যাচ পরিচালনা ও রেফারি নিয়োগে প্রভাব খাটনোর অভিযোগে শাস্তি পায় একাধিক ক্লাব। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় য়্যুভেন্টাস। এরপর ২০১১ সালে ক্রেমোনা বেটিং স্ক্যান্ডালে অবৈধ জুয়া ও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বেশ কিছু ফুটবলার ও কর্মকর্তা।
এছাড়া বিভিন্ন সময় তদন্তে উঠে এসেছে ইতালির উগ্র সমথর্ক গোষ্ঠীর সঙ্গে ইতালীর অপরাধচক্রের অয়ার্থিক ও টিকিট বানিজ্যের সংযোগের অভিযোগও। যদিও সব ঘটনায় সরাসরি মাফিয়াদের সম্পৃক্ততা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবুও এসব সম্পৃক্ততা ইতালির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।
মালদিনির বিদায়, কোচ সংকট আর টানা বিশ্বকাপ ব্যর্থতা সব মিলিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা। নইলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সংকট হতে পারে আরও দীর্ঘ ।





