৩৯ বছর বয়সেও ফুটবল মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। ভক্তরা যখন মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন দেখছিলো, ঠিক তখনই বিশ্বকাপ ফাইনালের নির্মম পরাজয় যেন এক ঝটকায় তাকে অনেকটাই পিছিয়ে দিলো এই দৌড়ে।
গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল— ৮ ম্যাচে ৮টি গোল আর ৪টি অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে অবিশ্বাস্যভাবে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালের মঞ্চে। মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পরও ট্রফি অধরা থাকায় মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের স্বপ্নও এখন এক বিরাট সমীকরণের মুখে।
মেসি যেখানে পিছিয়ে পড়লেন, ঠিক সেখান থেকেই রাজকীয় উত্থান ২০২৪ সালের বিতর্কিত ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রির। চোট কাটিয়ে ফেরার পর সিটির হয়ে মৌসুমটা খুব একটা ভালো না গেলেও স্পেনের জার্সিতে তিনি যেন অন্যরূপী।
স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার মূল কারিগর এই মিডফিল্ডার জিতে নিয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। আর এই এক বিশ্বকাপ জয় রদ্রিকে আবারও এনে দাঁড় করিয়েছে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে ফেভারিটের কাতারে।
আরও পড়ুন:
তবে রদ্রিকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত দুই ফরাসি স্ট্রাইকার। পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় এবং পুরো মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ২০ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী ওসমান দেম্বেলে। বিশ্বকাপে ৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে নিজের দাবিকে আরও জোরালো করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দলগত সাফল্য সীমিত হলেও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছেন গত মৌসুমে, করেছেন ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল। আর বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন হ্যারি কেইনও। ৫১ ম্যাচে ৬১ গোলের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স আর ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান এনে দিয়ে তিনিও আছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এছাড়া ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে পারেন লামিনে ইয়ামাল ও খভিচা কাভারাস্কেলিয়ার মতো তরুণ তুর্কিরা।
মেসির ফাইনাল হারের ট্র্যাজেডি, রদ্রির বিশ্বজয়, দেম্বেলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জাদু, নাকি এমবাপ্পে-কেইনের গোলবন্যা? কার হাতে উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কার? উত্তর মিলবে ২৬ অক্টোবর ব্যালন ডি’অরের জমকালো রাতে।




