খেলার মাঠ যখন হয়ে ওঠে বিশ্ব রাজনীতির দর্পণ; যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপে পর্দা নামার আগে তৈরি হলো এমনই এক মুহূর্ত।
মার্কিনিদের প্রত্যক্ষ মদদে ইসরাইলি আগ্রাসনে দুই বছরে প্রাণ গেছে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির; আহত আরও পৌনে দুই লাখ মানুষ। মানবেতর জীবনের কথা বলাই বাহুল্য। নিকৃষ্ট এই তাণ্ডব চালানো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হেভিয়ার মাইলি। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াসহ সংঘাত বন্ধের চেষ্টায় পদক্ষেপ নেয়া প্রধানতম দেশ স্পেন। ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনা-স্পেনের এবং আর্জেন্টিনায় সমর্থন ছিল ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর। রোববারের ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় স্পেন।
চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেয়ার সময় ট্রাম্প আর ফিফা প্রধান জিয়ানি ইনফান্তিনো মাঠে নামতেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসতে শুরু করে দুয়োধ্বনি। ব্যাপক বাদ্য-বাজনার আড়ালে ৮০ হাজার মানুষের গ্যালারি থেকে ধিক্কারের আওয়াজ ক্যমেরায় ক্ষীণ শোনা গেলেও ট্রাম্পসহ মাঠে উপস্থিতদের কানে পৌঁছেছিল স্পষ্টই। অবশ্য ট্রফি হস্তান্তরের আগে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো খেলোয়াড় ও কোচদের পদক প্রদানের সময় থেমে যায় দুয়োধ্বনি। কিন্তু অস্বস্তির আরও বাকি ছিলো।
আরও পড়ুন:
মানুষের মনোযোগ পেতে ট্রাম্প যে মরিয়া, বিশ্ব রাজনীতিতে তা ওপেন সিক্রেট। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের অনুষ্ঠানেও ক্যামেরার ফ্রেমে থাকার তার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির হাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তুলে দেওয়ার পর, ক্যামেরার ফ্রেম থেকে বের হতে লম্বা সময় নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। এ সময় রদ্রি তাকে সরে যেতে ইশারা করলেও, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ফিফা প্রেসিডেন্ট নিজে এসে ট্রাম্পকে সরিয়ে নিয়ে বাধ্য হন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, ঘটনায় মঞ্চে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, কারণ দেখে মনে হচ্ছিল যে ট্রাম্প স্পেনের সাথে ট্রফি জয়ের উদযাপনে থাকতে চাইছিলেন। ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অস্বস্তিতে পড়েন রদ্রি। এমনকি জায়গা ছাড়তে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কনুই দিয়ে গুঁতোও দেন স্প্যানিশ ফুটবলার।
ট্রাম্প সরতে না চাওয়ায় বিলম্বিত হয় চ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। শেষ পর্যন্ত ফিফা প্রেসিডেন্ট নিজে এগিয়ে এসে ট্রাম্পকে হাত ধরে মঞ্চের কোণায় সরিয়ে নেন। অবশ্য তারপরেও, পুরোপুরি সরে যেতে নারাজ ট্রাম্প স্পেনের শেষ খেলোয়াড়ের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকেন।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে দেয়া লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ফিফা প্রেসিডেন্টকে ফোন করে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন ট্রাম্প।





