চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় ওঠে একদিনে। কিন্তু সেই মুকুটের পথ তৈরি হয় প্রতিদিনের অনুশীলন, শৃঙ্খলা আর সঠিক প্রক্রিয়ায়।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব নিয়ে তাই শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট আর মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ওপর জোর দিচ্ছেন হান্নান সরকার।
তিনি বলেন, ‘আল্টিমেট গোল যেটা, চ্যাম্পিয়ন হওয়া; তার সঙ্গে প্রোসেস মেইনটেইন করা। আসলে একটা টুর্নামেন্টে তো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য অবশ্যই থাকে, তার সঙ্গে আরেকটি লক্ষ্য হলো উন্নতি।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর এরই মধ্যে হয়েছে দুটি স্কিল ট্রেনিং। বিকেএসপি ও রাজশাহীতে অনুশীলনের পাশাপাশি নিজের ক্রিকেট দর্শনও ছড়িয়ে দিয়েছেন দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে।
নির্বাচক সুমনের সঙ্গে আলোচনা করেও এগোচ্ছেন তিনি। তবে শুধু ১৯ নয়, ২৩ দলেও টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্টে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই কোচ।
আরও পড়ুন:
হান্নান সরকার বলেন, ‘১৯-এ কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দল ভালোই করছে। হাবিবুল বাশার সুমন ভাই মাঠে এসেছিলেন, ওনার সঙ্গে কথা হচ্ছিলো, আমি সিলেক্টর থাকা অবস্থায় বার বার বলছিলাম যে, ১৯-এর পরের স্টেজে অনূর্ধ্ব-২৩ এর যে একটা গ্রুপ তৈরি হয়েছে, সেই গ্রুপটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোলটা প্লে করতে পারে, সেটা টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট, ট্যাক্টিক্স এবং গেম অ্যাওয়ারনেস থেকে শুরু করে পুতিটি জায়গায়। ২৩ পার হয়ে যাওয়ার পরে আসলে জাতীয় দলে টেকনিক্যাল টিমে কাজ করার বিষয়টি থেকে যদি আমরা বের হয়ে আসতে চাই, তাহলে আমার মনে হয় ২৩ ব্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাফল্যের সঙ্গে ভাগ্যের সমীকরণও দেখছেন হান্নান। ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন দল কিংবা এশিয়া কাপজয়ী দলের উদাহরণ টেনে তার বিশ্বাস, ভালো প্রসেসের সঙ্গে কখনো কখনো লাকও হয়ে ওঠে বড় ফ্যাক্টর। পেস বোলিং গ্রুপ থেকে স্পিন পুরো দল নিয়েই আশাবাদী তিনি।
বিপিএল আর প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেই দর্শনই এবার জুনিয়রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান হান্নান। তিনি বলেন, ‘রাব্বি যখন ভালো অবস্থায় ছিলো, ঠিক তার পরপরই কিন্তু বিপিএল হলো, যেখানে সে কোনো দল পায়নি। এটা আসলে তার নিয়ন্ত্রণে নেই। দল যারা সিলেক্ট করে, তারাই ভালো বলতে পারবে। যেমন- আমার দলে রাব্বিকে পিক করিনি, কারণ আমার স্ট্র্যাটেজি ভিন্ন ছিলো। সুযোগ না পেলে অনেক সময় খেলোয়াড়দের আসলে কিছু করার থাকে না। তাই নিশ্চিতভাবেই যখন পেয়েছে, তখন সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে এবং তার উন্নতি আমি কিছুটা দেখেছি।’
১৭ থেকে ১৯ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একই কোচিং দর্শনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতের জাতীয় দল গড়াই এখন হান্নান সরকারের বড় মিশন। ট্রফি জয়ের স্বপ্ন আছে, তবে তার চেয়েও বড় স্বপ্ন ট্রফি জেতার মতো ক্রিকেটার তৈরি করা।





