Recent event

জুলাইবিরোধী প্রার্থী দিয়ে একটি দল জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে: কায়সার কামাল

কায়সার কামাল
কায়সার কামাল | ছবি: এখন টিভি
0

একটি দলের নেতা জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম মহানায়ক থেকেও গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে বেইমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ (সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণার দুর্গাপুরে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, ‘গত ৫ তারিখ এরকম একটি মঞ্চে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বক্তব্য দিয়েছিলেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। আমি জানি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম মহানায়ক ছিলেন। অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন, রাজপথে লড়াই করেছেন। কিন্তু দুঃখের কথা, তিনি এই আসনে তার পার্টির মনোনয়ন যাকে দিলেন, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তির দোসর ছিলেন। ২০২৪-এর নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন।’

মামলা আর নেতাকর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামে মামলা হয়েছিল। কিন্তু মামুনুল হকের যে প্রার্থী এ আসনে “রিকশা” প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো একটা মামলা হয়েছিল কি? অতএব, তিনি তার মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কীভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শে উজ্জীবিত বাংলাদেশ গড়তে চান? আজ এটি আমাদের দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসীর প্রশ্ন।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৭১ ও ২৪-কে সমন্বয় করে আগামীর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজকে যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হতো, শহিদরা যদি তাদের বুকের রক্ত বিলিয়ে না দিতেন, হাজার হাজার ছাত্র-জনতা যদি বুলেটকে আলিঙ্গন না করতো—তাহলে আমরা আজকে এ জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলার দুঃসাহস তো দূরের কথা, দাঁড়াতেও পারতাম না। মামুনুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং নেত্রকোণা-১ আসনে তাদের যে প্রার্থী, আমি মনে করি এর মাধ্যমে তিনি এ এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।’

কায়সার কামাল ধর্মের অপব্যবহার ও নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বলছে—দাঁড়িপাল্লা বা ১১ দলীয় জোটের যেসব প্রার্থী রয়েছে যেমন আমাদের এখানে রিকশা, তাদেরকে ভোট না দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে না। তাই আমি বলছি, এবারের নির্বাচন ঈমান রক্ষার চ্যালেঞ্জের নির্বাচন। জান্নাত নির্ধারণ করবেন স্বয়ং রব্বুল আলামিন। কোনো ব্যক্তি বা কোনো রাজনৈতিক দল কে জান্নাতে যাবেন তা নির্ধারণ করতে পারে না। তারা ধর্মের নামে প্রতারণা করছে। তাই মুসলমান হিসেবে আপনার-আমার ঈমান ভোটের দিন পরীক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে ভোট তাকেই দিন, যিনি জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে আসতে পারবেন। ভোট দিন তাকেই, যিনি দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। আপনার ভোট তাকে দিন, যিনি সীমান্ত এলাকার মানুষের পানির কষ্ট, যাতায়াত এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা নিরসন করতে পারবেন। আপনার ভোট তাকেই দিন, যিনি কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবেন যে তিনি এলাকার উন্নয়ন করতে এসেছেন। তাই ১২ তারিখ সারাদিন “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনারা প্রমাণ করুন যে আপনারা উন্নয়ন চান।’

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে এ জনসভায় অংশ নিতে দুপুর থেকেই দুর্গাপুরের সুসং সরকারি কলেজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে ভোটাররা বলছেন, এবার একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন।

এসএস