এই বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরে চলে শতশত মানুষের জীবিকা। নদীর এপার কিংবা ওপারে বাস করা একটি বড় অংশের মানুষ বেঁচে আছে কেবল এই বুড়িগঙ্গাকে ঘিরেই।
দুই পাড়ে দেখা মিলবে সেইসব পেশার মানুষের যারা নদীর ওপর নির্ভরশীল হয়েই বেঁচে আছে। যার মধ্যে অন্যতম চুম্বক মারার কাজ।
নদীর তলদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লোহা-লক্কড় খুঁজে বের করে থাকে এখানকার এক শ্রেণীর মানুষ। যা তোলার কাজে তারা ব্যবহার করে থাকে কয়েক কেজি ওজনের চুম্বক। স্থানীয়রা তাদের ডাকেন চুম্বক মারার লোক বলে।
ফজলু নামের এক মাঝি বলেন, ‘এভাবে চুম্বক মেরে লোহা-লক্কড় যেটুকুই উঠুক, সেটা দিয়ে ওদের ডাল-ভাত খাওয়ার পয়সা হয়।’
এক পায়ে ভর করে এগিয়ে আসছে সাকু মিয়া (ছদ্মনাম), তীর থেকে লাফিয়ে উঠছেন নৌকায়। পেশায় চুম্বক মারার কাজ করেন তিনি।
সাকু মিয়া বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে এরকম আছি। আমি ছোট ছিলাম, তখন ইজতেমায় গিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা হয়। পড়ে গিয়েছিলাম আমার এটা পা হারিয়েছি।’
সাকু মিয়া দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তার পা। এরপর থেকেই তার দুর্বিষহ জীবন। অভাবের পরিবারে উপার্জনে অচল প্রায় সবাই। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে কাজে নামেন নিজেই। দায়িত্ব নেন পরিবারের। বেছে নেন নদীতে চুম্বক মারার কাজ।
তিনি বলেন, ‘অনেক সমস্যার মধ্যে আছি, একদিন হয় তো আরেকদিন হয় না। তবুও বসে থাকতে পারি না, বাড়িতে মা-বাবা আছে। আমি কাজ না করলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে, তাই এই কাজ করি।’
কখনও কখনও এক পা না থাকা সাকু মিয়াকে নামতে হয় নদীর তলদেশে।
নদীর তলদেশে থাকা লোহা-লক্কড় চুম্বক দিয়ে তুলে আনেন তিনি। পরে তা বিক্রি করেই চলে সংসার। যুদ্ধ করে জীবন চালানো মানুষটাকে বহুদিন ধরেই চেনেন সদরঘাটের অন্য মাঝিরা।
তারা সবাই বুড়িগঙ্গার এই প্রাচীন পেশার সাক্ষী। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পেশার মানুষগুলোর জীবনে এসেছে বৈরী হাওয়া।
এখন আলাদা করে কেউ আর আটকে নেই এই পেশাতে। অন্যকাজের পাশাপাশিই করেন চুম্বক মারার কাজ। শুধু ভাগ্য ফেরাতে পারেনি সাকু মিয়া। এক পায়ে ভর করে এই কাজেই পাকাপোক্ত করেছেন নিজেকে।