রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে বেপরোয়া ভাবে চলছে রিকশা। গতিবিধি, লাইন-লেন মানার কোনো বালাই নেই। সড়কের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যেন রাজপথ দখলে ব্যস্ত রিকশা চালকরা। যে যেভাবে পারছে এলোপাতাড়ি প্রবেশ করছে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে। রিকশার এমন আধিপত্যে বাকি সব বাহন যেন অসহায়।
অলি গলি থেকে মূল সড়ক সবখানেই এখন একই চিত্র। এরমধ্যে অটো রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। একইসাথে সড়ক দখল করে এসব বাহন যত্রতত্র রাখায় বাড়ছে যানজটও। দীর্ঘদিন এমন সমস্যার কোনো প্রতিকার না মেলায় নগরবাসীর কণ্ঠে কেবল অসহায়ত্বের সুর।
একজন পথচারী বলেন, ‘অটোরিকশা চালকরা ডানেও দেখে না বামেও দেখে না, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে।’
আক্ষেপের সুরে আরেকজন বলেন, ‘ঢাকা শহরে যেন রিকশাওয়ালাদের রাজত্ব চলছে। তারা পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশ কাউকেই মানে না।’
নগরীতে প্রতিনিয়তই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রিকশার সংখ্যা। সেইসাথে রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের আশায় নতুনভাবে রাজধানীতে প্রবেশ করেছে অনেক বাহন। নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও, বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে প্যাডেল ও অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। এর মধ্যে আবার বেশিরভাগেরই নেই লাইসেন্স। ফলে, শুধু রিকশা সামাল দিতে অতিষ্ঠ ট্রাফিক পুলিশ ও সহযোগীরা।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহযোগী একজন বলেন, ‘প্রথমত, অটোরিকশা বা প্যাডেল রিকশার কারণে রাস্তায় বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।’
একজন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রিকশাকেই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে করি এবং তাদের কারণেই যানবাহন চলাচলের স্বাভাবিক গতি কমে যায়। তবে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’
অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, আইন না মানা সবকিছুই অকপটে স্বীকার করছেন রিকশা চালকরা।
রিকশাচালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার প্রতিদিন ৪০০ টাকা জমা দিতে হয় মালিককে। এখন গলিতে চালিয়ে যদি ৪০০ টাকা না ওঠে তাহলে প্রধান সড়কে তো আসবোই।’
বারবার নিয়ম করেও সড়কে নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই ব্যর্থ প্রশাসন। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও চালকদের আন্দোলনের মুখে সেটা তুলে নেয় আদালত। তবে, এবার বেপরোয়া চলাচল রোধে পরীক্ষামূলকভাবে রিকশা ট্র্যাপার স্থাপন করেছে ট্রাফিক বিভাগ। যদিও এতে দুই একটি আটক গেলেও বেশিরভাগ রিকশাই পার হতে সক্ষম হচ্ছে।