মাত্র ১২ টাকায় ভর্তি আর তিন মাসে ৩৬ টাকা বেতনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দক্ষতা উন্নয়নের ১২টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারা।
প্রবাসে কর্মরত জনশক্তির বড় অংশই অদক্ষ। নানামুখী চ্যালেঞ্জে টিকতে না পেরে প্রতিবছর অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসেন। তাই বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে সময়োপযোগী কোর্স। জরিপ বলছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ শেষের ছয় মাসের মধ্যেই ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদেশগমন করেন। কোর্স সম্পন্নের পর অন্তত অর্ধেক শিক্ষার্থী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। বাকিদের কর্মসংস্থান হয় দেশেই।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, 'অটোমোবাইল লেভেল-১ এর যে কাজগুলো করে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি। বিদেশে যেহেতু যাবো সেজন্য দক্ষ হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থেকেই কাজ শেখা।'
কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয় কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, কোরিয়া, জাপান, হংকংয়ের ভাষায় কথা বলতে চলছে কোর্স। মাত্র এক হাজার টাকায় চার থেকে ছয় মাসে বিদেশি ভাষা শিখছে শিক্ষার্থীরা।
জাপানিজ ভাষা শিক্ষার প্রশিক্ষক মো. হাসান মোর্শেদ বলেন, 'ভাষাগত স্কিল যতটুকু বেশি, তার থেকে জাপানের রাস্তা ততটুকু সহজ। জাপানের লাইফ পুরোটাই নির্ভর করবে তার ভাষাগত দক্ষতার উপরে।'
প্রশিক্ষকরা জানায়, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববাজারে দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বাড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
রেফ্রিজারেটর এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং ট্রেড ইনচার্জ মাকসুদ আলম বলেন, 'আমরা প্রশিক্ষণ দেই যেন তারা বিদেশে গিয়ে কাজ করে ভালো ভাবে ইনকাম করতে পারে। এবং দেশের রেমিট্যান্সে সহযোগিতা করতে পারে।'
অটোমোটিভ মেকানিকসের চিফ ইন্সট্রাক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, 'এখানে বিভিন্ন কোর্স আছে। অটোমেটিক মেকানিক্স আছে, ড্রাইভিং আছে, ইলেকট্রিক্যাল আছে, বিভিন্ন পেশায় আমাদের এখান থেকে সৌদি আরবেও যাওয়ার মতো সার্টিফিকেট অর্জন করার ব্যবস্থা আছে।'
বছরে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত ট্রেড কোর্সে অংশগ্রহণ করছে। গেল বছর ৩৪ হাজার বিদেশগামী এখানে প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে। কারিগরি কোর্স শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উচ্চ বেতনের চাকুরিও পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'বিদেশে যারা যাচ্ছে একবারেই ভিসা পেয়ে গেছে এইরকম, তাদের জন্য তিন দিনের একটা প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আমাদের এখানে চালু আছে। যারা এখান থেকে ট্রেনিংয়ের পরপরই ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স হয়ে গেলে খুব অল্প সময়েই তারা বিদেশ চলে যাবে।'
১৯৭৭ সালে কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বছরে গড়ে এক লাখ জনশক্তি রপ্তানি হয়। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় ১৪ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন।