ভারতে বসে পতিত প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে দেশব্যাপী যে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে, তারই অংশ হিসেবে গাজীপুরসহ দু'একটি জায়গায় ঘটনা সংঘাতেও রূপ নিয়েছে। সারাদেশের এসব ঘটনাকে নৈরাজ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে, সরকারের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে পরিবর্তিত পরিস্থিতি।
এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ অভিযান, অপারেশন ডেভিল হান্টের উদ্যোগ। বলা হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করতে যেসব পক্ষ কাজ করছে, তাদের নিষ্ক্রিয় করাই এর লক্ষ্য। কিন্তু বিগত সময়ে এসব অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ কিংবা উদ্বেগ তা নিয়েও চিন্তা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত সব পক্ষকে নিয়ে দিনব্যাপী এই কর্মশালা মূলত সেই জায়গা থেকেই সরকারের একটি উদ্যোগ। এর নাম দেয়া হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে আইনের প্রয়োগ শীর্ষক কর্মশালা।
এর উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন, সরকারের ৩ উপদেষ্টা। এখানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করেছিল পতিত স্বৈরাচারেরা। সতর্ক করেন, অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে যেন, বিচার বহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড না ঘটে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘এখানে মানবাধিকার রক্ষা করেও পুলিশিং সম্ভব। রাতের বেলা কোর্ট বসিয়ে আদালত বিচার করে না। বার বার রিমান্ডে পাঠিয়েও রক্তাক্ত করে না বা অত্যাচারের দিকে ঠেলে দেই কোনো রকম সাক্ষী ছাড়া।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর হবার আদেশ দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের।’ বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের নিষ্ক্রিয় করতে না পারলে অপারেশন ডেভিল হান্ট সফল হবে না।
তিনি বলে, ‘আমরা কোনো অপরাধীকে মাঠে, ময়দানে ও রাজপথে দেখতে চাই না। প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ১৫ বছর ধরে গুম, খুনের যে ঘটনা ঘটেছে তার বিচার করতে না পারলে তাদের পদে থাকার কোন মানে হয় না। জামিন দেবার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার জাজদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা হুটহাট করে কাউকে জামিন দিবেন না। জামিন পাওয়ার পরে একজন মানুষ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠে বা যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও একই অপরাধ করেন তাহলে আপনাদের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় হওয়ার কথা।’
পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দিক নির্দেশনা দেবেন, পুলিশ প্রধান, অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি অনেকে। বিকেলে এই কর্মশালা থেকে সুপারিশ ও প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হবে।