দেশে এখন
কেমন হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলগুলো?
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য এরইমধ্যে সব দেশ স্কোয়াড জমা দিয়েছে আইসিসিকে। তার মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া সব দলই ক্রিকেটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। কেমন হলো দলগুলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড? আর তাদের মধ্যে শিরোপা জেতার শক্ত দাবিদার কারা?

দুয়ারে কড়া নাড়ছে নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র-উইন্ডিজে হতে যাওয়া বিশ্ব আসরটির জন্য সবার আগে দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ধারাবাহিক পারফর্ম করা ক্রিকেটাররাই জায়গা পেয়েছেন ব্ল্যাকক্যাপস স্কোয়াডে। অভিজ্ঞদের মধ্যে আছেন কেইন উইলিয়ামনসন, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, লকি ফার্গুসনদের মতো তারকা। যারা কি না নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তাছাড়া কিউই শিবিরে আছে সোধি, স্যান্টনার,রাবিন্দ্র,নিশামের মতো সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পরীক্ষিত পারফর্মার।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড যেন শিরোপা ধরে রাখার মতো দলই গড়েছে। জশ বাটলারের নেতৃত্বে ইংলিশদের ব্যাটিং ইউনিট সামলাবেন বেয়ারস্টো, লিভিংস্টোন, ফিল সল্ট, ডাকেটরা। স্পিনে তাদের ভরসার নাম মঈন আলী আর আদিল রশিদ। পেস বোলিংয়ে গতির ঝড় তোলা জোফরা আর্চারের সাথে আছেন স্যাম কারান, রিচি টপলির মতো পারফর্মার।

এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভারত চমক রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দলে নিয়েছে তরুণ ক্রিকেটার জয়সওয়ালকে। আর ১৬ মাস পর দলে ফেরানো হয়েছে রিশভ পন্থকে। রোহিত, কোহলি, জাদেজা, বুমরাহ, পান্ডিয়াদের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে ট্রফি জেতার আশা করতেই পারে ভারতীয় টিম ম্যানেজম্যান্ট।

অভিজ্ঞদের নিয়ে দল সাজিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ব্যাটিং ইউনিটে আছেন ডেভিড ওয়ার্নার, গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল, ট্রাভিস হেডের মতো হার্ড হিটার। যাদের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে গেল বছরে ভারতে বিশ্বকাপ জিতেছে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গতির ঝড় তুলবেন মিচেল স্টার্ক-হ্যাজলউডের মতো তারকা পেসাররা। স্পিনে টিম ম্যানেজম্যান্ট আস্থা রেখেছে জাম্পা-অ্যাস্টন অ্যাগারের ওপর।

এবার দুই নতুন মুখ নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির টি-টোয়েন্টি লিগে আলো ছড়ানো বার্টম্যান আর রিকেলটনকে দলে নিয়েছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। মার্করামের নেতৃত্বে প্রোটিয়াদের হয়ে খেলতে দেখা যাবে ডি কক, মিলার, রাবাডা, ক্লাসেনদের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারদের।

উইন্ডিজ দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বছরজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়ান। এর ফলে টি-টোয়েন্টির অন্যতম সফল দল তারা। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে চমক বলতে আছেন টেস্ট ক্রিকেটে আলো ছড়ানো শামার জোসেফ। দলটির অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন রভম্যান পাওয়েল। আন্দ্রে রাসেল, জনসন চার্লস, জ্যাসন হোল্ডারদের মতো টি-টোয়েন্টি ফেরিওয়ালারাও আছেন সেই স্কোয়াডে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও বেশ সময় নিয়ে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও উইকেট কিপিং বিবেচনায় দলে রাখা হয়েছে লিটন দাসকে। আর দলে চমক বলতে তনভীর ইসলামের অন্তর্ভুক্তি।

সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজে আলো ছড়ালেও দলে জায়গা হয়নি সাইফুদ্দিনের। টাইগারদের হয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন জাকের আলী অনিক, রিশাদ হোসেন, তানভীররা। তারা ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারলে এবারের আসরে নিশ্চয়ই লড়াই করা সম্ভব।

পাকিস্তান খেলোয়াড়দের নামের তালিকা প্রকাশ না করলেও, সদ্য আয়ারল্যান্ড সিরিজ খেলা বেশিরভাগ ক্রিকেটার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকছেন সেটা অনুমেয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই কয়েকটি দল থেকেই যে শিরোপা নিষ্পত্তি ঘটবে, তা বলাই যায়।

এমএসআরএস