ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত ৩০

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল | ছবি: সংগৃহীত
0

রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, চাঁদা দাবি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী, রোগী ও স্বজনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মহিমা অ্যাপেন্ডিক্স এর ব্যথা নিয়ে শুক্রবার ভর্তি হয় মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে পরদিন তার মৃত্যু হয়। ঘটনার জেরে তারও একদিন পর রোববার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয়।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থাতেই সকালে কিশোরীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ করা হয়, ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও স্থানীয় ‘সবুজ’ নামের এক ব্যক্তি এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, যা না পেয়ে বহিরাগতদের নিয়ে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট রায়হান হাসার বলেন, ‘উনি আসলে রোগীর সরাসরি আত্মীয় না। উনি ১২-১৫ জন নিয়ে আসছিলেন। আসার পরে উনি ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন ক্ষতিপূরণ হিসেবে। তখন আমরা বলছিলাম যে, এটা তো আমার হাসপাতালের নিয়ম-কানুন মধ্যে পড়ে না। আপনার ভুল চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করছেন, তাহলে তো এটা আপনি আমাদের নামে মামলা করতে পারেন, এটা আদালতে প্রমাণ করবেন। এই ১০ লাখ টাকা চাইলেই তো এভাবে দেয়া সম্ভব না আমাদের পক্ষে। তা সেই সময় উনি আমাদের সাথে মিসবিহেভ করেন। মিসবিহেভ করার পরে আমাদের রুম থেকে বের হয়ে যান এবং বলেন যে, আপনারাও হাসপাতাল থেকে বের হবেন, আপনাদেরকে দেখে নেব।’

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বজন বা হাসপাতালের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছু লোকজন জড় হয়ে ঠিক আছে, একটা মানে হামলা বা ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি এগুলো চলছিল। আমরা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এসে সবাইকে দুপক্ষকে আমরা সরিয়ে দিই, ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দিই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। আর এখন পরিস্থিতি কন্ট্রোলে আছে, ঠিক আছে। আর যারা ভিকটিম পক্ষ বা যেকোনোভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যে আইনগত যে ব্যবস্থা তারা তাদের নেওয়ার সুযোগ আছে, তারা আইনের আশ্রয় নিলে, তারা আইনগত ব্যবস্থা নিলে অবশ্যই তারা সেটা নিতে পারবে।’

রোগীর মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধানে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । আর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জেআর