আজ (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের সুসং সরকার মহাবিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ডের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কিছু অনিয়ম বা ভুল ছিলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই ভুলগুলো শুধরিয়ে নতুনভাবে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করা হয়েছে বা চালিত আছে। আশা করছি এই ভুলগুলো আর হবে না।’
কৃষক কার্ডের সুষ্ঠু বণ্টন ও প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হলো এবং দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৯০ জন কৃষক কার্ডের ভাগীদার হলো। আমি আশা করছি বা এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পেয়েছি, কোনো ধরনের ত্রুটি হয়নি। আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। দল-মত নির্বিশেষে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হবে সেটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা এবং নির্দেশনা।’
প্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন এবং আমরা যারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আছি, আমরা প্রত্যেকে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছি। সেইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনেরও দায়িত্ব নিতে হবে। বিগত দেড় দশকের প্রশাসন আর এই প্রশাসন যেন এক না হয়।’
আরও পড়ুন:
আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে ও একটি ঘটনার উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই জানি না। একটু আগে নেত্রকোণা সদরের মাননীয় সংসদ সদস্য একজন একটা চিঠি বের করে দিলেন। সমাজসেবায় একটা অনুদান এসেছে। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমি এখনো জানি না। এই আমলাতান্ত্রিক যে বিষয়গুলো আছে, আমি প্রত্যেকের কাছে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাবো, ফ্যাসিস্ট রেজিমের দেড় দশকের সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সদস্যদের আপনারা কখনোই মিলাবেন না বা তুলনা করবেন না। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, জনগণের জন্য যে অনুদানগুলো আসে, আপনাদের প্রাথমিক দায়িত্ব স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তা জানানো।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এর ব্যত্যয় ঘটাবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক, অর্থাৎ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেবো এবং প্রয়োজনে জনগণ ক্রিমিনাল অফেন্সে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে।’
এদিকে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গেও কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা সদর বারহাট্টা আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডাক্তার আনোয়ারুল হক, কেন্দুয়া আটপাড়া আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট নুরুজ্জামান নুরুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।




