সাধারণের সংসার জীবনে জ্বালানির সংকট এক দুশ্চিন্তার নাম। গ্যাস সংকটে বিঘ্ন ঘটায় অনেকেই ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার কেনায়।
এই যেমন গৃহবধূ শাহরিয়ার তাসনিম। গ্যাস সংকটে রান্নার কাজে তার হিমশিম অবস্থা প্রায় মাস দুয়েক ধরে। উপায়ন্তর নেই, তাই বাধ্য হয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছেন ইলেকট্রিক চুলা কিনতে। জানান, প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাস না পেলেও মাস শেষে ঠিকই গুনতে হয় বিল। তাই অগত্যা ইনডাকশন চুলায় ভরসা। তবে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণাও ভাবাচ্ছে তাকে।
ভূক্তভোগী শাহরিয়ার তাসনিম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহরে গ্যাস নেই বললেই চলে। আমরা ভোরে উঠি, রাত্রে ১২টায় উঠি। তাও কোনো গ্যাস পাই না। বাধ্য হয়ে এখন ইলেকট্রনিকের চুলার জন্য আসছি। কিন্তু প্রত্যেক মাসে তো বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। কারেন্টও থাকে না, গ্যাসও থাকে না। আমরা বিভিন্ন সংকটের মধ্যে আছি এখন।’
রাজধানীর বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লাইনের গ্যাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করছেন এলপিজি। এতে তিতাসের বিলের পাশাপাশি এলপিজির জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের রান্না করার জন্য তাদের বাড়তি গ্যাস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যার কারণে তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাহিদা. ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র. ঘটফুট। ফলে চাহিদা মেটাতে একদিকে বিদ্যুতের ওপর যেমন চাপ পড়ছে ঠিক তেমনি গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। মূল্যস্ফীতির বাজারে যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংকট মোকাবিলায় সঠিক লোড ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এলপিজির দাম কমানো জরুরি। এক্ষেত্রে কম মূল্যের বিকল্প উৎস খোঁজা ও দীর্ঘমেয়াদে নতুন কূপ খননের দিকেও মনযোগী হওয়ার পরামর্শ তার।
পাওয়ার সেলের সাবেক পরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, ‘১১ নম্বর থেকে কিন্তু মিয়ানমার প্রচুর গ্যাস তুলছে। তবে ১২ নম্বর তার চেয়ে বেশি পটেনশিয়াল, অনেক বেশি গ্যাস। সেটার ব্যাপারে গত সরকার তো কিছুই করে নাই, এই সরকার আসার পরে সে ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডারের প্রক্রিয়া নিছে। এলপিজিকে এভেলেবেল এবং সস্তা করা, সেটা হচ্ছে বেস্ট ওয়ে, গ্যাসের ওপর মানুষ থাকবে।’
এদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অতিরিক্ত খরচ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আরও চাপে ফেলছে। এক্ষেত্রে সরকারকে করণীয় ঠিক করতে তাগিদ দেন তারা।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের দিক থেকে হয়তো আগামীতে এরকম কিছু নীতি কাঠামো আসা দরকার, যে সরকার আসলে আগামীতে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস বাসাবাড়িতে সরবরাহ করতে পারবেন কি না। বাসাবাড়িতে যদি ইনডাকশন চুলার ব্যবহারের বিষয়টাই যদি সরকার নিশ্চিত হয়, তাহলে বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সরকার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিবেন কি না, যাতে অন্তত রান্নার খরচটা একটা সীমিত পর্যায়ে থাকে।’
শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গ্যাস সমস্যার সমাধান না করলে আসন্ন শীত মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশংকা বিষেশজ্ঞদের।





