আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘মাদক ও ইন্টারনেটে আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধানের যে পথে’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সামাজিক সংগঠন ও পরিবারের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পুলিশ দিয়ে ভালো মানুষ তৈরি করা যায় না। বরং একবার পুলিশের খপ্পরে পড়লে সে আরও খারাপ হয়ে বের হয়ে আসতে পারে।’
তরুণদের জন্য এলাকায় পাঠাগার গড়ে তোলা, পাঠচক্রের আয়োজন এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, খারাপ আড্ডার পরিবর্তে তরুণদের পাঠচক্রে যুক্ত করতে হবে। রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত করা প্রয়োজন।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে। মেধাবী তরুণেরা বিদেশে চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে মেধাকে দেশের কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেধার কোনো বিকল্প নেই। যারা ভালো বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা অন্যান্য পেশাজীবী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তাদের দেশে থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা উচিত।’
সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘প্রথমে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাদক, ইন্টারনেট আসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে।’ তার ভাষায়, ‘যে নিজেকে জয় করতে পেরেছে, পৃথিবীতে মহামানব তারাই হয়েছে।’
প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, লক্ষ্যহীন জীবন মানুষকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় ব্যর্থতা কিংবা জীবনের কোনো বাধাকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। হতাশা থেকেই অনেক সময় মানুষ মাদকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব আয়োজনের মাধ্যমে একজন মানুষও যদি নিজের জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও তা সমাজের জন্য বড় অর্জন।’
তিনি বলেন, ‘আপনি নিজে সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে, পরিবার সুস্থ থাকলে সমাজ সুস্থ থাকবে। আর সমাজ সুস্থ থাকলেই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে।’





