বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, বাণিজ্যিক বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। প্রতিদিন এই পথে ছুটে চলে যাত্রী ও পণ্যবাহী অসংখ্য ট্রেন। সরাসরি না গিয়ে ঘুরে যেতে হয় আখাউড়া, ভৈরব ও টঙ্গী হয়ে। আর বেড়েছে দূরত্ব, বেড়েছে যাত্রার সময়ও। সেই বাস্তবতা বদলাতেই ঢাকা-কুমিল্লা অংশে নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত কর্ডলাইন বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে হিসাব-নিকাশও। ৩২০ কিলোমিটার থেকে কমে নতুন কর্ডলাইন নির্মাণ হলে দূরত্ব হবে ২৪০ কিলোমিটার। কমবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ। বর্তমানে যেখানে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা, সেখানে যাত্রার সময় নেমে আসতে পারে তিন ঘণ্টায়। এতে শুধু যাত্রী-সেবাই নয়, বাড়বে পণ্য পরিবহনের গতিও।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্ডলাইনের কথা বলেন অর্থমন্ত্রী । তিনি জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং প্রস্তাবিত তিনটি রুটের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি রুট প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই কর্ডলাইন চালু হলে গতিশীল হবে চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক বলেন, এই সরকার যেহেতু এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাহলে এটার বিনিয়োগটা কিন্তু অনেক বেশি হবে। এই বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্নটা যদি আমি উপযোগিতাটা যদি নিতে চাই, তাহলে ডেফিনেটলি এখানে সমন্বিত ডেভেলপমেন্টটা করতে হবে।
বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেলের কথাও বলছেন এই বিশেষজ্ঞ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক বলেন, আমি শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য কিন্তু এত বড় বিনিয়োগ করে কখনোই আমি রিটার্নটা আনতে পারব না। তাহলে সমন্বিত উন্নয়ন মানে আমার যে অর্থনৈতিক কনট্রিবিউশনটা রেল দিতে পারত, কন্টেইনার পরিবহনের মাধ্যমে ভর্তুকি কমাতে পারত, সেই কোনো উদ্যোগ আমরা রেলের দেখি না। যেটা থেকে গেল, সেখানে যেন আমরা ঘন ঘন কন্টেইনার ট্রেন চালাতে পারি।
পুরনো পথটিকেও যেন বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় সেদিকেও গুরুত্বের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।





